- নিজস্ব প্রতিবেদক :
সার ডিলার নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়ায় কি দীর্ঘদিনের সার সংকট ও সিন্ডিকেটের অবসান হবে—নাকি পুরোনো কাঠামোই নতুন রূপে বহাল থাকবে? নতুন ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এমন প্রশ্নই উঠেছে কৃষক ও সচেতন মহলে।সার ডিলার নিয়োগের বিধিমালা অনুযায়ী, তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে এবং পুরোনো ডিলারশিপের আওতাধীন এলাকা পূর্ণ হয়ে গেলে সেখানে নতুন করে একজন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।ফ্যাসিস্ট আমলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সরকারি পণ্য বিতরণের সিন্ডিকেট ভাঙতে তেল, গ্যাস, ওএমএস, টিসিবি, সার ও বীজসহ বিভিন্ন খাতে নতুন করে ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিলারদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো ডিলারদের বহাল রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ২০২৬ সালে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিছু বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। নতুন করে সার ডিলারশিপ তাদের হাতে গেলে একই ব্যবসায়িক বলয় আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।বিশেষ করে কিছু কীটনাশক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তার মতো ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কৃষকের জমিতে গিয়ে পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ ও কীটনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে।কৃষকদের অভিযোগ, ভুলভাল তথ্য দিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্ত করে কোম্পানির স্টিকার বা লেবেল খুলে ফেলে নাম ও জাতবিহীন কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ উঠে।এতে কোনো নির্দিষ্ট বীজের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলে তারা অনেক সময় বাধ্য হয়ে একই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হন। এতে কৃষক অন্য দোকান থেকে পণ্য কিনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে দায় নির্ধারণের সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্দেশ্য যদি সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের কাছে সহজে ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে একই ধরনের ব্যবসায়িক বলয়ের হাতে ডিলারশিপ চলে গেলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতটা সম্ভব?সংশ্লিষ্টদের মতে, সার ডিলার নিয়োগ শুধু ব্যবসায়িক যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়; আবেদনকারীর সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কৃষকদের সঙ্গে আচরণ, বাজারে সুনাম, পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকবান্ধব, সৎ, উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন ব্যবসায়ীদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক প্রভাব যেন নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।শেষ পর্যন্ত নতুন ডিলার নিয়োগ কৃষকের সার সংকট কমাবে, নাকি পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন সংস্করণ তৈরি করবে—এর উত্তর নির্ভর করছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ওপর।
নিবেদক
মোঃ আয়ুব মিয়াজী
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রেস-ফ্রিডম সংস্থায় নথিভুক্ত সাংবাদিক,
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আহত যোদ্ধা,
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক-
আয়ুব মিয়াজী কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এন্ড প্রিন্টার্স (৭০১৯৫)
নাছির প্লাজা (খান প্লাজার সামনে), দোহাজারী পৌরসভা, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য