৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চাটখিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত দুর্নীতির বিচার দাবি করে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন ফ্রি ট্রেড জোন, কার্গো হাব ও নতুন বন্দর পরিকল্পনায় বদলে যাবে চট্টগ্রাম : আমির খসরু খোকন গাজীর সমর্থনে চট্টগ্রামে অবস্থানরত ভেলুমিয়াবাসীর মতবিনিময় সভা চট্টগ্রামে রডবোঝাই ট্রাক বিলে পড়ে ৩ শ্রমিক রডচাপায় আহত “দুদক একটি অকার্যকর ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান”—ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কিশোরগঞ্জে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন সহস্রাধিক মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সচেতনতায় এগিয়ে যাচ্ছে সামাজিক সংগঠন কাচিসাইর আলোর দিশারী আড়াইহাজার উপজেলা শিক্ষকদের কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে মতবিনিময় করলেন এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর চোখ রাঙ্গানী ৪ গুণ বেড়েছে, সিটি করপোরেশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
আন্তর্জাতিক:
শাম্মী তুলতুল—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য
     
             

তীব্র অকটন সংকট সহ চট্টগ্রামে জ্বালানীর জন্য গ্রাহকদের হাহাকার

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রামে হঠাৎ করে অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় নগর ও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোথাও আবার ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে অকটেন সরবরাহ না পাওয়ায় সীমিত আকারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে অকটেন দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা জানিয়েছেন, ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহে চাপের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বেপরোয়া মজুদদারির কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক ভোক্তার অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও ‘সংকট’ দেখিয়ে বিক্রি সীমিত করা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে অর্ধেক জ্বালানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক পাম্পে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন এবং প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৪৬টি। সংকটের কারণে এসব পাম্পের অনেকগুলোতেই স্বাভাবিক বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে।পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অকটেনের সংকট রয়েছে। বর্তমানে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী অকটেন পাচ্ছে না। তেল নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে।’এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে ভরা মৌসুমেও ঘাটে অলস সময় পার করছেন হাজারো জেলে। রেশনিং পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, তাতে মাঝ সাগরে গিয়ে আবার ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা।জানা গেছে, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও নিয়মিত মাছ ধরতে সাগরে যায় কয়েকশ ট্রলার। প্রায় দুই লাখ জেলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত। সমুদ্রগামী একটি ট্রলারের ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল ধারণক্ষমতা রয়েছে।জলদাশ নামে এক ট্রলার মালিক জানান, তার সাতটি ট্রলার রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চারটি ট্রলার বর্তমানে ঘাটে বসে আছে। অন্য তিনটি এক সপ্তাহ আগে সাগরে গেছে। তবে সেগুলো ফিরে এসে আবার সাগরে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেটি মঙ্গলবার বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত মজুদ বা কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page