খাগড়াছড়ি পানছড়ি প্রতিনিধি মোঃ নূর হোসাইন বাবু >>> খাগড়াছড়ি পানছড়িতে জোহার গঁসায় মারাংবুরু এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা বাহা’ উৎসব ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পানছড়ি পশ্চিম সাঁওতাল পাড়ার উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।সকাল থেকেই সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরিধান করে উক্ত র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা। মূলত সকল দুঃখ কষ্ট কে ভুলে গিয়ে প্রকৃতির আশীর্বাদ প্রার্থনা এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতেই এই বিশেষ আয়োজন।সাঁওতাল সম্প্রদায়িকেরআয়োজক কমিটি জানায়, পশ্চিম সাঁওতাল পাড়ার এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে ‘সাঁওতাল স্টুডেন্টস ফোরাম’ এবং ‘সাঁওতাল উন্নয়ন সহাসান কমিটি ।সাঁওতাল প্রতিনিধিরা জানান, ‘বাহা’ বা ‘পাতা বাহা’ তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈসাবি উৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তারা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে পুরাতন বছরের সকল দুঃখ কষ্ট কে জলাঞ্জলির মাধ্যমে। নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি বছরই এ ধরনের আয়োজন করে থাকেন। র্যালি শেষে স্থানীয় মাঠে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান পরিবেশিত করা হয় ।র্যালিতে স্থানীয় গরেলি রেলি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সাঁওতাল স্টুডেন্টস ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাহাড়ে চলমান বৈসাবি উৎসবের সাথে সাঁওতালদের এই বর্ণিল আয়োজন খাগড়াছড়ির সাঁওতাল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।


মন্তব্য