ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার আলিঙ্গন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাহুল দাবি করেছিলেন, কেবল আলিঙ্গন করলেই তা পররাষ্ট্রনীতি হয়ে যায় না। তার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সামাজিক মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি লোকসভায় মোদিকে রাহুল গান্ধীর আলিঙ্গন করার ছবিও পোস্ট করেন। রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই বিজেপি এই কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন রাহুল গান্ধী কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরে মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে দেখা হলেই তাদের আলিঙ্গন করা কোনো পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। সেই সময় সন্দীপ দীক্ষিত রসিকতা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যদিও কংগ্রেসের দাবি, রাহুল নিজে মেলোনির নাম নেননি, বরং সন্দীপ দীক্ষিতই ওই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
রাহুল গান্ধী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়ে জাতীয় স্বার্থের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চান যে, কেবল আনুষ্ঠানিক সৌহার্দ্য দিয়ে প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় স্বার্থই মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী সামাজিক মাধ্যমে তাকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, তিনি কবে রাজনৈতিকভাবে পরিণত হবেন। বিজেপির অভিযোগ, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিবেচনাবোধ বজায় রেখে দুই দেশের মধ্যে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশ দুটির মধ্যে গভীর বোঝাপড়া রয়েছে।
রাহুল গান্ধী কেবল এই বিতর্ক নয়, বরং আরও একটি আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। লোকসভায় সরকারি পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধিত বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে অসংসদীয় ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নোটিস দিয়েছে সংসদের স্বাধিকার কমিটি। বিজেপি নেতা সঞ্জয় জয়সওয়ালের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে রাহুলকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের মন্তব্য এবং পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে সংসদে স্বাধিকার কমিটির নোটিস, অন্যদিকে আলিঙ্গন কূটনীতি নিয়ে বাকযুদ্ধ—সব মিলিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বর্তমানে বেশ চাপের মুখে রয়েছেন।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধী যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন।
আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে রাহুলের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
জবাবে রাহুল বলেন, তিনি এতটা ভেবে আলিঙ্গন করেননি।এর পরই রাহুলের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।
রাহুল অবশ্য তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
একটি বৈঠক শেষে বেরিয়ে ইন্দিরা নাকি সোনিয়াকে বলেছিলেন, আমেরিকানরা তাকে বোকা ভাবছে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, তিনি যে রঙের শাড়ি পরেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও সেই রঙের পোশাক পরেছিলেন।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সূত্র: যুগান্তর


মন্তব্য