দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়া প্রায় ১৬ লাখ শিশুকে দ্রুত প্রতিষেধক দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে চিহ্নিত এসব শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ইনজেকশন দেওয়া হবে। রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ইপিআই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, দেশের নির্দিষ্ট কিছু ছোট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি। তিনি বলেন, “দেশের কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি সব শিশু টিকা পায়নি। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের হাতে থাকা ১৬ লাখ টিকা দেওয়া হবে।” ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতেও সভায় আলোচনা হয়েছে। সচিব আরও যোগ করেন, “আমরা ১৬ লাখ এখন দেব এবং ভবিষ্যতের জন্য ২৫ লাখ টিকা কেনার প্রকিউর করছি। এই টিকা কেনার ব্যাপারে ইউনিসেফের বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে।”
হামের সোমবারের বুলেটিন অনুযায়ী, এবছর ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ জন শিশু টিকা পেয়েছে, যেখানে ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। তবে গত ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো শিশুদের সংখ্যা প্রকাশের পর থেকে টিকার কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও ইপিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুনের হিসাবে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছিল। অথচ সেই সময় হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে টিকা নিয়েছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু। অর্থাৎ তখন অন্তত ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন শিশু টিকা পাওয়ার উপযোগী ছিল। এই বিশাল ব্যবধানের পরিপ্রেক্ষিতেই বাদ পড়া শিশুদের একটি অংশের জন্য নতুন করে টিকাদানের উদ্যোগ নিল সরকার।
সূত্র: Daily Adin


মন্তব্য