মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর >>> ফরিদপুরের সালথা উপজেলা বাউশখালী গ্রামে প্রতিবেশীদের মারধর ও অপমান সইতে না পেরে বিষপানের ঘটনায় দুলু শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত দুলু শেখ বাউশখালী গ্রামের আওলাদ শেখের ছেলে। তিনি- স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দুলু শেখের পারিবারিক বিরোধের জেরে বাকবিতণ্ডা হয়।এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি রোববার দুপুরে প্রতিবেশী রহমান শেখ,রহমান শেখের স্ত্রী জায়েদা খাতুন,হবি শেখের স্ত্রী মালা বেগম দুলু শেখের বাড়িতে এসে তাকে মারপিট করে। রাগে ক্ষোভে অপমান সইতে না পেরে ঘাস মারা বিষ পান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন সোমবার সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।নিহতের স্ত্রী শোভা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “শনিবার প্রতিবেশী রহমান শেখ আমাদের বাড়িতে আসেন। আমার স্বামী বাইরে কাজ থেকে বাড়িতে এসে আমাকে ও রহমান শেখকে বাড়িতে ঘরের দরজায় দেখে সে সন্দেহ করেন। এ বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয়। পরদিন আমার স্বামী ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় রহমান শেখ, তার স্ত্রী জায়েদা খাতুন ও মালা বেগম দলবদ্ধভাবে আমার স্বামীকে স্যান্ডেল দিয়ে মারধর করেন। ওই ঘটনার অপমান ও ক্ষোভ সইতে না পেরে তিনি বিষ পান করেন।”অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত রহমান শেখ (৪০), তার স্ত্রী জায়েদা খাতুন (৩০) এবং মালা বেগম (৩৫) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হলেও ১৬ জুন নিহতের ছোট ভাই সুজন (২৫)বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি মামলা করেন।মামলা নং- ১৬ তারিখ ১৫/০৬/২০২৬ ইং সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে দুলু শেখের মরদেহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ ম.বাবলুর রহমান খান বলেন, ” নিহতের ভাই সুজন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছে।অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য