আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে পুনরায় দায়িত্বে পুনর্বহাল না করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও ‘জুলাই আন্দোলনের’ যোদ্ধারা। আজ বুধবার (১৭ জুন) সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।স্মারকলিপিতে জসিম উদ্দিনকে বিগত স্বৈরাচারী আমলের ‘ভোটবিহীন চেয়ারম্যান’ এবং একাধিক নৃশংস হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।আবেদনপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গারাংগিয়া পরান শাহ পাড়ার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (পিতা: এরশাদ হোসেন, মাতা: মরিয়ম খাতুন)। গত ৫ই আগস্ট (২০২৪) ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে, জনগণের কোনো ম্যান্ডেট বা ভোট ছাড়াই তিনি জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি এই পদটি লুটে নিয়েছিলেন।এলাকাবাসীর পক্ষে উত্থাপিত মূল অভিযোগগুলো হলো: গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ: জসিম উদ্দিন একাধিক বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। অপরাধের দায়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে (জেলে) অন্তরীণ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন পলাতকও ছিলেন।অবৈধ জনপ্রতিনিধিত্ব: জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ দখল করায় নৈতিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই তার এই জনপ্রতিনিধিত্ব অবৈধ ও জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে জসিম উদ্দিন আবারও সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে বসার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং প্রশাসনিক অনুমতি লাভের চেষ্টা করছেন। একজন দাগী হত্যা মামলার আসামি এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী ব্যক্তি যদি পুনরায় দায়িত্ব পান, তবে এলাকায় চরম অসন্তোষ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবণতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে।স্মারকলিপি প্রদানকালে সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধারা জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার স্বার্থে জসিম উদ্দিনকে কোনো অবস্থাতেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে দেওয়া যাবে না। এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তারা প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্মারকলিপির সাথে সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার এজাহারের কপি, অভিযুক্তের বিভিন্ন অপকর্মের ছবি, এলাকাবাসীর গণ-স্বাক্ষরের পাতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় থাকা সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়ার ছবি সংযুক্তি হিসেবে প্রশাসনের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতাধীন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং আইনগত বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।


মন্তব্য