আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় ২০১৪ সালের পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে গত ১ সেপ্টেম্বর থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলু। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের খান মোহাম্মদ বাড়ির ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ পারভেজ। ২০১৪ সালে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে তিনি সম্প্রতি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কয়েক দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ আগস্ট তৃতীয় দফা শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ এবং নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। যার এফআইআর নম্বর- ৪ এবং জিআর নম্বর- ১৮২ (তারিখ: ০১/০৯/২০২৬)।
মামলার নথিতে জানা যায়, দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলামকে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘদিন আগের একটি ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ায় স্থানীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদী মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “২০১৪ সালের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশায় আমি দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আদালতের নির্দেশে অবশেষে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আমার প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আনীত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।


মন্তব্য