অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ডলফিন মাইন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। টাংস্টেন উত্তোলনের জন্য পরিচিত এই খনিটি ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সামরিক অস্থিরতা এবং টাংস্টেনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে খনিটি নতুন করে উৎপাদনে ফিরছে। শক্ত ধাতু হিসেবে টাংস্টেন বর্ম-ভেদী গুলি ও সাঁজোয়া যানের বর্ম তৈরির জন্য অপরিহার্য।
ডলফিন মাইনের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনে ১৯১৭ সালে এটি প্রথম চালু করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে খনিটি পুনরায় সচল হয়। পরবর্তীতে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও চাহিদার প্রেক্ষিতে এটি চালু ও বন্ধের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রবণতা বাড়লে খনিটি সচল রাখা হয়েছিল, তবে ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের এক বছর পর এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ডলফিন মাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাকতালীয়ভাবে, এর কয়েক সপ্তাহ পরই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে খনিটিতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ মাটির নিচ থেকে আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই খনিটি পুনরায় চালুর পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। পেন্টাগনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চীন যেকোনো সময় তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যা বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ধাতুর সংকট তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় এই ধাতু সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সম্প্রতি তারা কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন ভাণ্ডার থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো টাংস্টেন। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, ট্রাম্প প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। তবে ঘাটতি মেটাতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে টাংস্টেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর খনিগুলোতে বিনিয়োগের হিড়িক পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্ট্রেলিয়ার একটি খনিতে আছে প্রচুর টাংস্টেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এটা ঘটছে ঠিক এমন সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বড় বড় যুদ্ধ শুরু হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই খনি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এখন বিনিয়োগকারীরা বড় লাভের আশায় খনিটির দিকে নজর দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ তারা মনে করছেন সামনে টাংস্টেনের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল।
সূত্র: যুগান্তর


মন্তব্য