মোঃ দিদারুল ইসলাম >>> চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।ডিসি বলেন, নির্বাচনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এখন তাঁরা সবাই দায়িত্বশীল অঙ্গনের অংশ, তাই তাঁদের আচরণও হতে হবে দায়িত্বশীল।তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রার্থীরা যেভাবে আচরণবিধি মেনে চলছেন, সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত তাঁরা যেন এই আচরণবিধি মেনে চলেন—এটাই প্রত্যাশা। পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক জানান, আগামীকাল থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তবে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত আকার অনুযায়ী লিফলেট বিতরণ করা যাবে এবং সেখানে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাইকিংয়ের সময়সূচি ও ব্যবহারের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না—মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, বাস কিংবা লঞ্চে কোনো শোডাউনই বরদাশত করা হবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রার্থীদের পক্ষে কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাবেন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, ফেসবুক পেজসহ বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে তবেই প্রচারণা চালাতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আগামীকাল বা পরশু থেকে পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করবে। প্রবাসীদের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম থেকে নিবন্ধিত হওয়ায় এখানেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে।তিনি জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর পোস্টাল ব্যালটগুলো জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যালট ট্রেজারিতে প্রবেশ করবে এবং এ সময় প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের স্বাক্ষর, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ তথ্য আগামীকালের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে।গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, চুয়েটসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে তা মোকাবিলা করা হবে এবং যারা গুজব ছড়াবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।











মন্তব্য