মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধি >>> বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা,,,,,
বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের মান্যবর হাইকমিশনার নিক লো-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং গঠনমূলক কূটনীতির প্রতি উভয় দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ছিল।বৈঠকে উভয় হাইকমিশনার বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন।বুধবার ১০ ডিসেম্বর বৈঠকে হাইকমিশনার জনাব নিক লো মালদ্বীপে তার কূটনৈতিক মিশনের অগ্রাধিকার, লক্ষ্য ও কার্যক্রমের দিকগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকায় তার পূর্ববর্তী কূটনৈতিক দায়িত্বকালের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি, জনগণ ও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রশংসা করেন। মান্যবর হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।আলোচনায় নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে কার্যকর শ্রম ব্যবস্থাপনা ও মানব নিরাপত্তা টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।দুই হাইকমিশনার মালদ্বীপের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যৌথ সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
উভয় পক্ষ কমনওয়েলথের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।বৈঠকের শেষে উভয় হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গঠনে যৌথ লক্ষ্যগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে। তারা পারস্পরিক স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।











মন্তব্য