বাছির আহমদ সিলেট >>> সিলেট কাজ চাই ভাত চাই, অচল পাথর কোয়ারি সচল চাই”—এই এক আর্তনাদে গত আট বছর ধরে ভারী হয়ে আছে উত্তর সিলেটের আকাশ-বাতাস। দেশের অন্যতম প্রধান পাথর উৎস সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি, শ্রীপুর ও লোভাছড়া কোয়ারিগুলো দীর্ঘ আট বছর ধরে বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ শ্রমিক। চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
এমতাবস্থায়, সিলেটের এই বিশাল শ্রমগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
স্তব্ধ অর্থনীতি, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় জাফলং ও ভোলাগঞ্জ এলাকার শত শত স্টোনক্রাশার মিলে জং ধরেছে। ঋণের টাকায় কেনা ট্রাক ও ট্রাক্টরগুলো রাস্তার ধারে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পানির দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিনিয়োগকারীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে, আর শ্রমিকরা দুবেলা অন্নের সংস্থানে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরিবেশগত বিপর্যয় ও নদী ভাঙন
প্রতিবেদনে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কোয়ারিগুলোর উৎসমুখে পাথরের পাহাড় জমেছে। পাহাড়ী ঢলের সাথে নেমে আসা পাথর অপসারণ না করায় নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে জাফলং জিরো পয়েন্টে পিয়াইন নদীর মুখ ৩০-৪০ ফুট ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোতে নদী ভাঙন দেখা দিচ্ছে, যা বিলীন করে দিচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল ও মসজিদ।
শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি
পাথর উত্তোলন ও সরবরাহ শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা বারবার সনাতন পদ্ধতিতে (ম্যানুয়াল পদ্ধতি) পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়েও কোনো সুরাহা পাননি। সাধারণ শ্রমিকদের বক্তব্য:
“আমরা কোনো যন্ত্র বা বোমা মেশিন চাই না। আমরা চাই আমাদের পূর্বপুরুষদের মতো সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করতে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে আমাদের জেল-জরিমানা করে, কিন্তু আমাদের পেটের ক্ষুধার সমাধান কেউ দিচ্ছে না।”
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে নিম্নমানের পাথর আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করছে। তারা মনে করেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত বর্তমান সরকারের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ওপর আস্থা রাখছেন স্থানীয়রা। তাদের বিশ্বাস, তিনি সরজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করেই সনাতন পদ্ধতিতে কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এতে করে যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ পাথরের চাহিদা মিটবে, তেমনি রক্ষা পাবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের পরিবার।











মন্তব্য