এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে চট্টগ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে উপদেষ্টা যে মন্তব্য করেছেন, সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন মেয়র; দিতে বলেছেন চাঁদাবাজের তালিকাও।গতকাল (১১ ডিসেম্বর) বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালিন কমিটি বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে নৌ পরিবহন উপদেষ্ঠার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন মেয়র শাহাদাত।মেয়র বলেন, ‘কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা নিউজ করেছে– মেয়র যারা ছিল সবাই ভক্ষক। এটা আমার গায়েও এসেছে। আমি উপদেষ্টাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি কি এমন কিছু বলেছেন? বলেছি, আপনি স্পষ্ট না করলে আমি প্রেস কনফারেন্স করব এবং যতদিন ব্যাখ্যা না দেবেন, ততদিন আপনাকে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে দেব না।’শাহাদাত হোসেন জানান, উপদেষ্টা পরে তাঁকে বলেন, তিনি অতীতের মেয়রদের প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন। এর পরই তিনি উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন– বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজির বক্তব্যের উৎস কী? মেয়র বলেন, ‘আমি তো বন্দর থেকে হোল্ডিং ট্যাক্সই পাচ্ছি না। সাত থেকে আট টনের সড়কে ৩০ থেকে ৪০ টনের গাড়ি চলছে। বন্দরের কার্যক্রমে আমার সব রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করতে হয় রাস্তাগুলো মেরামতে। তাহলে চাঁদাবাজি কারা করছে? আপনি বছরে ২০০ কোটি টাকা দেন না। আবার বলছেন, প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়– এর মানে কী?’চসিকের শিক্ষা খাতে বছরে ৭২ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতনও দিতে পারি না। জনসেবার জন্য ট্যাক্স নিই, কিন্তু অসংখ্য রাস্তাঘাটে এখনও খানাখন্দ। যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের নাম স্পষ্ট করুন; চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করব।’তিনি আরো বলেন, গত সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর যেই ব্যাংকগুলোতে কোটি কোটি টাকা জমা করেছে সেই ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পরও টাকা জমা রাখা হয়েছে। সেই টাকা কারা নিয়েছে, কিভাবে নিয়েছে সেটি চট্টগ্রামবাসী জানতে চায় এবং জবাব দিতে হবে।এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা এসব অনিয়ম নিয়ে লিখুন। এগুলো চট্টগ্রামের সম্পদ, রাষ্ট্রের সম্পদ, আপনার ও আমার সম্পদ। আর আপনাদের জানাতে চাই, বস্তুনিষ্ঠতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোন ভুল নিউজ করা হয় তখনি সেটি সেই ব্যক্তিকে নয় শুধু সাংবাদিকতাকেও কলুষিত করে৷ সংবাদে বস্তুনিষ্ঠতা সাংবাদিকতাকে উজ্জল করে৷এসময় তিনি নৌ পরিবহন উপদেষ্টার উদ্দেশ্য বলেন, কোন ধরনের প্রমাণ না থাকলে এ ধরনের কথা বলাও উচিৎ নয়। কাজেই আপনাকে প্রমাণ দিতে হবে কে কিভাবে এই চাঁদাবাজি করছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমিন, মুহাম্মদ উল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, সাংবাদিক ওসমান গণি মুনসুর প্রমুখ।











মন্তব্য