১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
না ফেরার দেশে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামাল হোসেন ফ্লোরিডায় রাশিদা তালিবের নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল, নেপথ্যে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের প্রয়াণ: বিতর্ক ও শোকের ছায়া চাটখিলে রাস্তার মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১ পটিয়ায় ১৩বছরের অপহৃত,লামার কিশোরী উদ্ধার। রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা, নিহত ১ ইংল্যান্ড সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেলেন বাবর আজম অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পথে বাংলাদেশ, ফক্স স্পোর্টসের ভবিষ্যদ্বাণীতে জয়ের সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ দোহা মেট্রোর আল সাদ্দ স্টেশন এখন শিল্পকলায় সমৃদ্ধ এক উন্মুক্ত গ্যালারি
আন্তর্জাতিক:
ফ্লোরিডায় রাশিদা তালিবের নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল, নেপথ্যে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের প্রয়াণ: বিতর্ক ও শোকের ছায়া হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের, কঠোর হুঁশিয়ারি তেহরানের ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২ ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত ২ ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি গতি: চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনের নতুন বিশ্বরেকর্ড ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, নতুন প্রতিরোধ গড়ার হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার
     
             

না ফেরার দেশে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামাল হোসেন

  

ভারতের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, কবি ও কথাসাহিত্যিক ডা. কামাল হোসেন আর নেই। শনিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সকালে, ঠিক সাতটার সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও চিকিৎসা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১ আগস্ট হঠাৎ তীব্র স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়, যেখানে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে উঠে আসা এই বিদগ্ধ মানুষটি তার কর্ম ও সৃজনশীলতার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সাহিত্যচর্চার ধারা বহমান; ভাই কবি নাসের হোসেন ও বোন সোনালী লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তার সন্তান কুণাল হোসেন একজন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সাহিত্যিকদের সংখ্যা যখন কমে আসছিল, তখন তিনি সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ বা আবু আতাহারের মতো লেখকদের ধারায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তার ছোটগল্প ও উপন্যাসের মূল উপজীব্য ছিল স্বাধীনোত্তর মুসলিম সমাজ ও পরিবারের নানা টানাপোড়েন। তবে তার লেখনী কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বৃহত্তর বাঙালি সমাজ ও তাদের জীবনসংগ্রাম তার সাহিত্যের প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা যেমন ‘পরিবর্তন’, ‘শিলাদিত্য’ ও ‘কলম’-এ তার অসংখ্য কবিতা ও প্রবন্ধ নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৯ সালে বুদ্ধদেব বসু ও প্রতিভা বসুর ‘কবিতা ভবন’ থেকে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অন্য প্রকাশ’ প্রকাশিত হয়।

তার সৃজনশীল কাজের তালিকায় রয়েছে ‘উপকথার জন্মবৃত্তান্ত’, ‘মর্ত্যে তিন পরি’, ‘শীতঘুম’, ‘আকলির নীল স্বর্গ’, ‘ফেরিওয়ালার দিন’, ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’, ‘পর্যটন’, ‘সুকুর আলির ২৪ ঘণ্টা’, ‘প্রেমের গল্প’ এবং ‘শরীরের মানচিত্র’-এর মতো উল্লেখযোগ্য বই। উপন্যাস সাহিত্যেও তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। ১৯৯০ সালে তার উপন্যাস ‘পরম বিশ্বাসের গন্ধ’ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া ‘বাণপ্রস্থ’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধারায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ‘দ্বীপভূমি’ প্রমা পুরস্কার লাভ করে।

তার লেখনীতে সমাজ ও মানুষের ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে তীব্র স্যাটায়ারের মাধ্যমে, যার প্রমাণ মেলে ‘স্বভূমি’ উপন্যাসে। কবিতার জগতেও তিনি ছিলেন সমান সাবলীল। ‘সীমান্তের মানুষ’ দিয়ে কাব্যচর্চার শুরু হলেও পরবর্তীতে ‘তুমি একা নও’, ‘পাতাল নির্মাণ’, ‘লাফিংবুদ্ধ’, ‘চ্যাপলিনের নতুন ঠিকানা’, ‘দাহ’ ও ‘নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’র মতো গ্রন্থগুলো পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। তার সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদার, যা সব ধর্মের পাঠকের কাছেই তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

পেশাগত জীবনে ডা. কামাল হোসেন ছিলেন অত্যন্ত মানবিক। তিনি মাদার টেরেসার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং উত্তর ২৪ পরগনার একটি ক্লিনিকে গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতি সপ্তাহে সময় দিতেন। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, চিকিৎসা ও সাহিত্য—উভয় ক্ষেত্রেই উচ্চ শিখরে থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না; বরং মানুষের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সহজভাবে মিশতেন।

২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি প্রথমবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ চার বছর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে হাঁটছিলেন। কিন্তু গত ১ আগস্ট পুনরায় তীব্র স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত শনিবার স্বাধীনতার দিনে সকাল ৭টায় তার জীবনাবসান ঘটে।

‘পুবের কলম’ পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন ডা. কামাল হোসেন। নিজের নাম ও ছদ্মনামে তিনি সেখানে বহু লেখা প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য আহমদ হাসান ইমরান। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডা. কামাল হোসেনের প্রয়াণে তার অগণিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীরা গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সাহিত্যকর্ম এবং মানুষের সেবায় তার অবদান তাকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

ডারউইন টেস্টে জয়ের পথে বাংলাদেশ: ফক্স স্পোর্টসের পরিসংখ্যানে ৬৯ শতাংশ সম্ভাবনা
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন: রেকর্ডের হাতছানি ও কঠিন চ্যালেঞ্জ
মালয়েশিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ এইচপি
প্রেক্ষাপট: কাতারের সরকারি সেবার মান যাচাইয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ চালু
প্রেক্ষাপট: অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির দলের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ
গালি ও বিদ্রূপে ভ্যান্সের ‘ট্রল’ রাজনীতি: রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন সংকট
দুবাইয়ের জেবেল আলি শিল্পাঞ্চলে ২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণ
সাতকানিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা

You cannot copy content of this page