আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম।।চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংক্রমণ ও ঝুঁকি এড়াতে একের পর এক উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান তদারকি করছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর সম্প্রতি হাটহাজারী উপজেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরজমিনে অংশ নেন তিনি। মাঠপর্যায়ের তদারকির পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ওষুধ প্রয়োগেও তাকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে।জেলা প্রশাসন সূেত্র জানা গেছে, পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান নিয়ে গত জুলাই মাসের শেষভাগ থেকে জেলাজুড়ে শুরু হয় এ কর্মসূচী। পরবর্তীতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ১,২০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জলাশয় এবং প্রায় দুই হাজার মসজিদে বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হয়।
হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সম্প্রতি একযোগে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর আগে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান সম্পন্ন করা হয়।
রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আলাদা শয্যা বরাদ্দসহ পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
চলমান কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, যৌথ প্রচেষ্টা ও মাঠপর্যায়ের কঠোর পদক্ষেপের ফলে বিগত মাসের তুলনায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও প্রাণহানি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল একটি সংস্থা বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একই ছাতার নিচে এসে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চলমান এ সমন্বিত প্রতিরোধ অভিযান অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসন।





মন্তব্য