ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি >>> ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা সংলগ্ন প্রগতিপাড়া এলাকায় অবিনাশ চন্দ্র রায় নামে এক পাট কর্মকর্তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে প্রগতিপাড়া এলাকায় ৭ শতাংশ জমি কেনেন পাট কর্মকর্তা অবিনাশ চন্দ্র রায়। সম্প্রতি সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধসহ বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়। এরই জেরে রোববার দুপুরে একদল যুবক নির্মাণাধীন ভবনে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেয়াল ও ঘর ভেঙে ফেলে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অবিনাশ চন্দ্র রায় জানান, হামলাকারীরা রাজমিস্ত্রিদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এই দিকে ভুক্তভোগী পাট কর্মকর্তা অবিনাশ চন্দ্র রায় এর স্ত্রী সুইটি রানি রায় জানান, গত কয়েক বছর আগে আমরা এ ৭ শতাংশ জমি দলিল মূলে ক্রয় করি। এর পর সম্প্রতি বাসা বাড়ি নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মান সামগ্রি এনে জমিতে ফেললে আরিফ, আতিক সহ স্থানীয় কিছু ছেলেপেলে আমাদের কাছে মোটা অংকের চাদা দাবি করে। আমরা তা দিতে রাজি না হলে তারা নির্মান কাজ বন্ধ করে দেবার ও বাড়ি ভাংচুড়ের হুমকি দেয়। এর ফলশ্রুতিতে আজ তারা এ কান্ড ঘটিয়েছে।এদিকে, হামলা চলাকালে জিকো নামে এক ব্যক্তির কেয়ারটেকার নুর ইসলামকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী কেয়ারটেকার নুর ইসলাম জানান, ১০–১২ জনের একটি দল এসে অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রুহিয়ার আখেরি জামাল এবং রামনাথের জয়নুল, আক্তার ও সোহরাবসহ কয়েকজন এসে আমাকে মারধর করে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।” তবে পরবর্তীতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন বলে তিনি জানান।ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে “সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট” বলে দাবি করেন।অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত আখেরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্বীকার করেন বলেন, উক্ত জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা চলছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সেখানে ঘর নির্মাণ করায় আমাদের পক্ষের লোকজন গিয়ে তা ভেঙে দিয়েছে। তবে মারপিটের বিষয়টি অস্কীকার করেন তিনি।এ বিষয়ে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, ঘটনার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পক্ষকে লিখিত এজাহার দায়ের করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য