১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়ি পাল্লার সমর্থনে স্বতঃস্ফূর্ত মহিলা মিছিল অন্য দলকে ভোট দিলে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দিব: হাসনাতের প্রতিদ্বন্দী বিএনপির নেতা মঞ্জু মুন্সি। সাতকানিয়ায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর প্রতীকী মহড়া চট্টগ্রাম-৯ আসনে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বাঁশখালীতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বিশাল জনসভা কর্নেল অলি পটুয়াখালী শহীদ মিনারে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর শেষ নির্বাচনী বার্তা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। নির্বাচনে ব্লেইম গেম বা নাটকের সুযোগ নেই -চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।  আমি আপনাদের সন্তান নির্বাচনী প্রচারণা শাহজাহান চৌধুরী  চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত
আন্তর্জাতিক:
  • প্রচ্ছদ
  • অন্যান্য
  • চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে চরম সংকট
  • চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে চরম সংকট

      বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

    এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> লাইটার জাহাজ সংকটে সাগরে আটকে ৮৫টির বেশি জাহাজ, প্রতিদিন কোটি টাকার ক্ষতি।চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্যশস্য, সার ও শিল্পের কাঁচামাল বোঝাই ৮৫টির বেশি জাহাজ সাগরে ভাসছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের ড্যামারেজ বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইটারেজ জাহাজের প্রকৃত সংকটের চেয়েও অব্যবস্থাপনা ও জাহাজের অপব্যবহারই এই পরিস্থিতির জন্য বেশি দায়ী।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে খাদ্যশস্য বহনকারী বেশ কিছু লাইটারেজ জাহাজ নির্ধারিত গন্তব্যে গিয়ে পণ্য খালাস না করে মাসের পর মাস সাগরে ভাসছে। আমদানিকারকরা এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করায় লাইটার জাহাজগুলো মূল কার্যক্রমে ফিরতে পারছে না। ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি সংকট।জানা গেছে, বড় শিল্প গ্রুপগুলো নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য খালাস করলেও অন্যান্য আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজ বুকিং নেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী লাইটার জাহাজ না পাওয়ায় অর্ধশতাধিক মাদার ভেসেলের পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটরদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে একটি মাদার ভেসেল প্রায় ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে বন্দরে এলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে খালাস শেষ করে চলে যায়। বর্তমানে লাইটারেজ সংকটের কারণে সেই সময়সীমা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। অনেক জাহাজকে ২০ থেকে ৩০ দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো জাহাজ কয়েক দিন ধরে এক টন পণ্যও খালাস করতে পারছে না।শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙরে অবস্থানরত প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ড্যামারেজ গুনতে হচ্ছে।বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএইচবিওএ) সভাপতি সরওয়ার হোসেন সাগর বলেন, “জাহাজ দ্রুত আসছে, কিন্তু পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। স্বাভাবিক পণ্য প্রবাহ বজায় রাখতে প্রতিদিন যেখানে ২০০ থেকে ৩০০টি লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি। ফলে খালাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।”অন্যদিকে বিডব্লিউটিসিসি এই সংকটের জন্য ঘন কুয়াশা ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের কাজে নিয়োজিত ১৪০টি জাহাজ আটকে থাকাকে দায়ী করেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াশার কারণে কিছুটা দেরি হলেও মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনাগত। তারা সংকট নিরসনে জাহাজ বরাদ্দে সিরিয়াল প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগং (আইভোয়াক)-এর সহসভাপতি পারভেজ আহমেদ বলেন, “বিডব্লিউটিসিসির অধীনে প্রায় ১ হাজার ২০০টি লাইটার জাহাজ ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি মোংলা বন্দরে চলে গেছে। এছাড়া ৬৮৭টি জাহাজ বহির্নোঙর থেকে পণ্য বোঝাই শেষে খালাস করে ফিরে না আসায় আমরা চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ সরবরাহ করতে পারছি না।”তিনি আরও বলেন, “সাধারণভাবে একটি লাইটার জাহাজের বহির্নোঙর থেকে ঘাটে পণ্য এনে খালাস করতে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু বর্তমানে একেকটি লাইটার জাহাজ এক থেকে দেড় মাস ধরে পণ্য খালাস না করেই পড়ে রয়েছে।”

    মন্তব্য

    আরও পড়ুন

    You cannot copy content of this page