এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগমের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ এ দুটি মামলা দায়ের করেন।দুদক সূত্র জানায়, তাছলিমা বেগম সম্পদ বিবরণীতে মোট ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭২ হাজার ১৯০ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। তদন্তে পাওয়া যায়, তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা—যা ঘোষিত সম্পদের তুলনায় ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকা বেশি। এছাড়া তার বৈধ আয় ৯৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪ টাকা হলেও ব্যয় বাদে নেট সঞ্চয় দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩২ টাকার সম্পদের উৎস মেলেনি। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।অপরদিকে সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম সম্পদ বিবরণীতে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। তবে দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রকৃত সম্পদ পাওয়া যায় ৯ কোটি ৫৪ লাখ ১৭ হাজার ১৯২ টাকা। তিনি ঋণ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৭ টাকা, কিন্তু দুদক গ্রহণযোগ্য ঋণ পেয়েছে মাত্র ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার ৮১৭ টাকা। ফলে তার প্রকৃত নিট সম্পদ দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা—যা ঘোষিত সম্পদের চেয়ে ২ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি।দুদক জানায়, জহুরুল আলম জসিমের বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৪৮৫ টাকা। কিন্তু নিট সম্পদ পাওয়া যায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। এতে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদ দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯২ টাকা। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।দুদক সূত্র আরও জানায়, তাছলিমা বেগম ব্যবসায়ী এবং তার নামে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ‘আরিবাহ ডেইরি অ্যান্ড ফুডস’-এর ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানে জহুরুল আলম জসিমেরও ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এছাড়া তিনি ‘জেড এন্টারপ্রাইজ’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।











মন্তব্য