এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা ইস্যুতে টানা ৬ দিনের কর্মবিরতি কর্মসুচী দুই দিনের জন্য স্থগিতের পর পুর্ব ঘোষনা অনুযায়ী আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী (রোববার) সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারো লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৭ ফেব্রুয়ারী(শনিবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন। এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারী শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এবং ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল সংগঠনটি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।তবে ৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনায় নিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।আন্দোলন স্থগিতের পরপরই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়। এ খবরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হন।সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনা করে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান (রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। এ অবস্থায় আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।”সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সংগঠনটির চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো—১. এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা,২. বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ,৩. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল,৪. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন ও শরীফ হোসেন ভুট্টোসহ অন্যান্যরা।চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এ বন্দরের অংশ প্রায় ৯৯ শতাংশ। বন্দর বন্ধ হলে কনটেইনারে রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এবং শিল্পকারখানার আমদানিকৃত কাঁচামাল খালাসও স্থবির হয়ে পড়বে।











মন্তব্য