নিউজ ডেস্ক। প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থীর জন্য সারা দেশে কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পরীক্ষার্থী সংখ্যায় শীর্ষে ছিল ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফল জানতে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকে ফলাফল দেখা যাবে। নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল ও নম্বরপত্র ডাউনলোড করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নার থেকে নিজস্ব ফলাফল শিট সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল জানতে পারবে।ফোনের মাধ্যমে ফলাফল জানার ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
HSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2026
এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। যেমন, ঢাকা বোর্ডের ১২৩৪৫৬ রোলধারী পরীক্ষার্থীকে লিখতে হবে: HSC Dha 123456 2026।
নম্বর নিয়ে আপত্তি থাকলে আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো পরীক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন পদ্ধতি, ফি ও অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল এবারের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা যথাসময়ে আয়োজন করা যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
সব মিলিয়ে এবারের ফলাফলে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে পাসের হার কমে যাওয়া। গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম পাসের হার শিক্ষার মান, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ফলাফলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।





মন্তব্য