সেন্টার ফর জুইশ ইমপ্যাক্টের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণের সময় নিজেদের ইসরাইলি পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় বা উদ্বেগ বোধ করেন দেশটির ৫২ শতাংশ মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজেদের আচরণে পরিবর্তন এনেছেন ৪১ শতাংশ ইসরাইলি। এর মধ্যে অনেকে ভ্রমণের গন্তব্য পরিবর্তন করেছেন, কেউবা সফর বাতিল করেছেন, আবার কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম এড়িয়ে চলছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ও কূটনীতি নিয়ে জরিপে গভীর অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। যদিও ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী, তবে মাত্র ২৩ শতাংশের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইল তাদের নীতি ও অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারছে। এছাড়া ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরাইলের জনকূটনীতি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার বর্তমান কার্যক্রমকে অকার্যকর বলে মনে করেন।
তবে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে গেছে বলে মনে করেন না অধিকাংশ নাগরিক। ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করে জনকূটনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা এখন সবচেয়ে জরুরি। ২৫ শতাংশের মতে, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অন্যদিকে, মাত্র ১৪ শতাংশ মনে করেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থান উন্নত করা আর সম্ভব নয়।
অভ্যন্তরীণ সামাজিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে জরিপে কিছুটা আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখা গেছে। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, ইসরাইল এখনো একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ হিসেবে টিকে থাকতে সক্ষম, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জরিপে ছিল ৬৭ শতাংশ। তবে সামাজিক বিভাজন এখনো স্পষ্ট; ধর্মনিরপেক্ষ ইসরাইলি ও কট্টরপন্থী অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থান সম্ভব বলে মনে করেন ৬৪ শতাংশ মানুষ। তবে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে সহাবস্থান সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন মাত্র ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ


মন্তব্য