২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
গভীর সংকটে সিটি গ্রুপ: ঋণের পাহাড় ও লোকসানের মুখে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, তবুও লড়াইয়ের আশা ছাড়ছেন না শরিফুল ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ। চট্টগ্রামে জুয়েলারী দোকান থেকে স্বর্ণ আত্মসাৎ: বন্ধকী ব্যবসার আড়ালে চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে ভোলা: রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাহিরপুরে পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধীর ব্যক্তির ২০ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার। সখিপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিকিৎসা অনুদান প্রদান বিদ্যুৎবিভ্রাটে চমেক হাসপাতাল, রোগীদের চরম ভোগান্তি রাওয়ালপিন্ডিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও গৃহকর্মী আটক, শ্বশুর পলাতক
আন্তর্জাতিক:
ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র রাওয়ালপিন্ডিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও গৃহকর্মী আটক, শ্বশুর পলাতক কাতারের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করল কাতার এয়ারওয়েজ শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলার জরিমানা দেবে টিকটক ইরানের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না জর্জিয়া: জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য হরমুজ প্রণালিতে অনলাইন নিরাপত্তা ঘটনায় বন্ধের আহ্বান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরানের ভাগ্য পশ্চিমা শক্তির হাতে লেখা হবে না: স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস কাতারের ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: কতটা সফল হবে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ?
     
             

গভীর সংকটে সিটি গ্রুপ: ঋণের পাহাড় ও লোকসানের মুখে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী

  

১৯৭২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় একটি ছোট সরিষার তেলের মিল দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিটি গ্রুপ। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ভোজ্য তেল, চিনি, আটা-ময়দা, ডাল ও ফিডসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এবং ইস্পাত, শিপিং ও গণমাধ্যমের মতো বহুমুখী খাতে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০২৩ সালে গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর বর্তমানে তার ছেলে মো. হাসান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে গ্রুপটি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও অপরিকল্পিত বিনিয়োগকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সিটি গ্রুপ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে গণমাধ্যমকেও হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। তবে ২০২৪ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে পড়েছে। নতুন করে ব্যাংক সুবিধা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রুপটি এখন তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারেরও গুঞ্জন ও অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সিটি গ্রুপের ওপর দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এইচএসবিসি’র পাওনা ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক পিএলসি’র ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ১ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ৯৮৬ কোটি টাকা।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ১০৮.৫৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্রুপটির ছয়টি শিল্প প্রকল্প রয়েছে, যা বর্তমানে বড় ধরনের ঋণের বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে, যার বিপরীতে সুদ ও অর্থায়নের খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। সিটি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া ২০২২ সালে মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণেও গ্রুপটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এই সংকট উত্তরণে গ্রুপটি এখন তাদের সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে। হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি এবং মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের আটটি চা বাগানের আংশিক বিক্রির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা চলছে। তবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ভঙ্গুর ঋণ কাঠামোর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলনের নতুন উদ্যোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো বড় শিল্পগ্রুপ খেলাপি হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। আইন মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ নীতিগত সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করবে। তবে ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ মহলের মতে, বড় ধরনের খেলাপি ঋণ উদ্ধারে অতীতে সম্মিলিত উদ্যোগ খুব একটা সফল হয়নি। তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পগোষ্ঠী এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্য বলছে, গত দেড় দশকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তোলেন সিটি গ্রুপের নীতিনির্ধারকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চাটুকারিতার সেই সাম্রাজ্যে এখন ধস নেমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে আগের নেয়া খেলাপি ঋণ ও সুদের পাহাড় সিটি গ্রুপকে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এর ফলে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে, অথচ এর বিপরীতে অর্থায়নের খরচ বা সুদ ক্রমাগত জমা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যখন কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক খাতকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে, তার পরিণতি এমনই হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যাংকগুলো কতোটুকু ঋণ আদায় করতে পারবে তা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা চার-পাঁচটি ব্যাংক মিলে কাউকে উদ্ধার (সালভেজ) করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page