পাকিস্তান সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগ না থাকলে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হতে পারে। দেশটির সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী সিনেটের এক উত্তপ্ত অধিবেশনে এই সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতাল বা প্রয়োজনবোধে অন্য কোনো উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
সিনেটে আলোচনার সময় মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মূলত একটি আইনি বিষয় স্পষ্ট করার জন্য। তাদের মূল প্রশ্ন হলো, সাম্প্রতিক আদালতের আদেশে বন্দিদের যে বিশেষ সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছে, তা কি কেবল নির্দিষ্ট কোনো বন্দির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নাকি সব বন্দির জন্য সমানভাবে কার্যকর। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “শুধু এই আইনি বিষয়টি স্পষ্ট করা যে আদালতের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট বন্দির মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।” তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত বর্তমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সরকার তা পুরোপুরি মেনে চলবে।
অধিবেশনে পিটিআইয়ের সিনেটর মোহসিন আজিজ সরকারের সমালোচনা করে কটাক্ষ করেন যে, সরকার যুক্তরাজ্যে একটি হাসপাতাল কিনে নিয়েছে জেনে ভালো লাগছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর জবাবে মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সরকার ইমরান খান ও অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে—এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারাগারে থাকা সব দণ্ডিত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নিয়ম রয়েছে।
পরবর্তীতে এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, ১৮ আগস্টের রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্য আদালতের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা নয়। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে ইমরান খানের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়া গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সব ধরনের আইনি বিকল্প বিবেচনা করবে। এর মধ্যে শিফা হাসপাতালে চিকিৎসা অথবা প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস দেশের কারাগার ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা “ভেঙে পড়েছে” এবং বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি নওয়াজ শরিফের সময়কার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, আইনের অধীনে কোনো দণ্ডিত বন্দীর স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে তাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরো বলেন, যদি তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, সেটিও আমরা করব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিরোধীদলীয় এই নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, নওয়াজ শরিফের স্বাস্থ্যের বিষয়টি যখন সামনে এসেছিল, তখন তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা দেয়া হয়েছিল।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য