আনোয়ার হোসেন,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি >>> যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়েছে। বুধবার সকালে জুলাই শহীদ নাঈম বাবুর স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী চিত্রাংকন প্রতিযোগীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে জুলাইগণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে সভা বক্তাব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম,কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল গফুর, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রশিদ শাহ্, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির)উপজেলা শাখার আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম লাবু,জাতীয় ছাত্র শক্তির উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন,বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি কবিরাজ পাড়া গ্রামের নন গেজেট ভুক্ত জুলাই শহীদ মীর সাব্বির হোসেন মুন্নার বোন সুমাইয়া আক্তার প্রমুখ।আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জ্জামান সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তাগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অপর দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মুন্নার বোন কান্না জড়িত ও ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলেন,দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে আমার ভাই ৫আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। অনেক খোঁজাখুজির পর ১৫ দিন পর জানতে পারি বেওয়ারিশ হিসেবে ভাইয়ের লাশ দাফন করা হয়েছে। পরে ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে তার কবর চিহ্নিত করা হয়। অকাতরে জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করলেও আজও আমার ভাইকে সরকারিভাবে গেজেট ভুক্ত করা হয়নি। তা হলে দেশের জন্য জীবন দিয়ে কি লাভ হল। পরিশেষে তিনি তার ভাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট ভুক্তকরাসহ মুন্নার কবর নিজ বাড়িতে স্থানান্তরিত করার জোর দাবি জানান।


মন্তব্য