আনোয়ারুল আজিমঃ নোয়াখালী প্রতিনিধি >>> বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং গণমাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক ও জেন্ডারভিত্তিক রীতিনীতির দায়িত্বশীল উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে নোয়াখালীতে সংবাদকর্মীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।নোয়াখালী সদর উপজেলার নাইস কনভেনশন হলে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থা সাগরিকা। এতে সহযোগিতা করে ইউএনএফপিএ (UNFPA) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে দুইজন করে সংবাদকর্মী এতে অংশ নেন।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহের পেছনে শুধু দারিদ্র্য নয়; সামাজিক কুসংস্কার, লিঙ্গবৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, পারিবারিক চাপ এবং সচেতনতার অভাবও সমানভাবে দায়ী। একটি বাল্যবিবাহ একটি কিশোরীর শিক্ষা ব্যাহত করে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং তার ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে দেয়।বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের সংবেদনশীলতা, তথ্যের সত্যতা এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। কোনো শিশুর পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়, যা তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে কেবল ঘটনা প্রকাশ নয়, সমস্যার কারণ, আইনি দিক, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য সমাধানও সংবাদে তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, মানবিক গল্প, সফল প্রতিরোধের উদাহরণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।কর্মশালায় নারী ও শিশুবান্ধব সাংবাদিকতার গুরুত্বও বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সংবাদ পরিবেশনের ভাষা যেন কোনোভাবেই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে; বরং তার অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে সম্মান করে—এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।অংশগ্রহণকারী সংবাদকর্মীরা জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে তাদের পেশাগত জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধ আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তারা।কর্মশালার সমাপনীতে আয়োজকরা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব। সত্যনিষ্ঠ, মানবিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।


মন্তব্য