আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় সুপরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর এবং কোমলমতি শিশুদের ওপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ জুন) জমিরিয়া মাদরাসার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্এবং মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী। তারা অভিযোগ করেন, গভীর রাতের এই হামলায় বেশ কয়েকজন মাসুম শিক্ষার্থী শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে দিয়ে দেওয়ালে রাজনৈতিক স্লোগান ও উস্কানিমূলক চিহ্ন এঁকে দেয়। এই ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি মাদরাসার নিজস্ব খরিদকৃত সম্পত্তি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সম্পূর্ণ শান্তিময় ও সুনামের সাথে মাদরাসাটি এখানে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ অন্যায়ভাবে এবং জোরপূর্বক মাদরাসার জায়গা ও রাস্তা দখলের চেষ্টা করায় কর্তৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত উক্ত জায়গায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের এই আইনি নিষেধাজ্ঞা ও লিগ্যাল এইডের নোটিশ তোয়াক্কা না করেই গভীর রাতে বিবাদীপক্ষ এই তাণ্ডব চালায়।মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনাটি যাতে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক দাঙ্গায় রূপ নেয়, সেজন্য সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা গভীর রাতে প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স স্প্রে করে ঢেকে দেয়। এরপর মাদরাসার সাইনবোর্ডে “জয় বাংলা” এবং দেওয়ালে ৬৯এর মতো রাজনৈতিক স্লোগান ও উস্কানিমূলক চিহ্ন লিখে দেয়।সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার এক দায়িত্বশীল প্রতিনিধি বলেন:আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এখানে বসি নাই, এটি সম্পূর্ণ একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানা। দুষ্কৃতকারীরা রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার করে মূল ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নিতে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে এই কাজ করেছে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নই, আমরা চিহ্নিত অপরাধীদের শাস্তি চাই।”হামলা চলাকালীন মাদরাসার ভেতরে থাকা মাসুম এতিম শিশুদের ওপর উপর্যুপরি পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিশু রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরপরই রাতেই স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং করানো হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের ছবি ও মেডিকেল প্রেসক্রিপশন পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।তাছাড়া, সিসিটিভি ক্যামেরায় স্প্রে করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত হামলাকারীদের প্রবেশ ও গতিবিধির স্পষ্ট ফুটেজ রেকর্ড রয়েছে, যেখানে অপরাধীদের চেনা যাচ্ছে। হামলাকারীরা তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভাঙচুরের কাজে ব্যবহৃত একটি বিশাল হাতুড়ির লোহার অংশ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়, যা বর্তমানে বড় আলামত হিসেবে সংরক্ষিত আছে।এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আজ সকালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করার জন্য লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও ফেলে যাওয়া হাতুড়িসহ সমস্ত আলামতের কথা জানানো হয়েছে।যেহেতু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এতিম শিশুদের নিরাপত্তার সাথে জড়িত, তাই পুলিশ প্রশাসন দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনবে বলে তীব্র আশা প্রকাশ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


মন্তব্য