১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধ অবসানে প্রশাসনের সভা ফেসবুকে ভুয়া গ্রুপের প্রতারণা: বাঁশখালীর আরিফের সিন্ডিকেটে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ রুহিয়ায় ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্প হোয়ানকের মঞ্জুরুল আলমের দাফন সম্পন্ন! জানাযায় শোকাহত মানুষের ঢল কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন সাতকানিয়ায় ৩ হাসপাতালে অভিযান: ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ ইউএনওর অনুমতি ছাড়া তথ্য নয়’—ঢোলারহাট ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে প্রশ্ন ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গাঁজা ও চাকুসহ আটক ২ পটিয়া রাহাতআলী স্কুলের পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার।
আন্তর্জাতিক:
সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক
     
             

কিশোরগঞ্জে কোথায় হারিয়ে গেল গ্রাম-বাংলার শিং চোর

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

একটা সময় কাঁচা বসতবাড়ি সিঁধকেটে কিংবা শিং দিয়ে চুরি করত শিং বা সিঁধেল চোর।সমাজে নানাভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও এ ধরনের লোমহর্ষক চুরির গল্পকাহিনী ছিল একেবারেই রোমাঞ্চকর। যা ছিল সুক্ষ চুরিবিদ্যা ও কঠিন কাজ।শরীরে তেল মেখে চুরির একটা ব্যাপার ছিল।যা দারুণ বুদ্ধিমত্তা ও সাহস দুটোই লাগত এ চুরিতে।রীতিমত এটি ছিল একটি শিল্পকর্ম।কালেরবির্বতনে সমাজ আজ অনেকটাই নিরাপদ ও উন্নয়নমূখী।গ্রামে নেই তেমনাটা কাঁচাবসতবাড়ি।এতে কোথায় হারিয়ে গেল গ্রাম-বাংলার সেই সূণিপুন হাতের শিং চোর ও তার শিল্পকর্ম।এক সময় উত্তর জনপদের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মঙ্গা ভয়াবহ ছিল।অভাব ও স্বভাবের কারণে শিং চোরের কি যে উপদ্রব ছিল তা বলাই বাহুল্য।এ ধরনের চোর আঞ্চলিক ভাবে শিং চোর নামে পরিচিত ছিল।এমন চোরের যন্ত্রনায় পুরো এলাকা অতিষ্ঠ থাকত।কখন না সংসারের সর্বস্ব খুঁইয়ে যায়।রাত পোহালে কারোনা কারো বাড়ি চুরির হইচই পড়ত।পরনের পোষাক ছাড়া ঘরে থাকা রেড়িও,ক্যাসেট,টিভি,ভিসিয়ার,বাইসাকেল,স্বণার্লংঙ্কো,টাকা পয়সাসহ হাতের কাছে যা পেত সব কিছু ধুয়ে মুছে নিয়ে যেত।যে কোন ছদ্ম বেশে তারা এলাকার ধনবান গৃহস্তের কাঁচাবসতবাড়ির আদ্যপান্ত তালাশ করত।চুরির ব্যাপারে থাকত তাদের সন্ধান দাতা।একটু রাত হলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে গৃহস্তের বাড়ির পেছনে ঝোপঝাড়ে অবস্থান নিত নিশি কুটুমরা।এসময় বাড়ির লোকজন কখন ঘুমায়,কোন ঘরে কি মালসামানা আছে অনুসন্ধান চালায়।যতক্ষণ না বাড়ির লোকজন না ঘুমায় শীত কিংবা ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।ততক্ষণ হাঁচি-কাশি দমন করতে হয়।সহ্য করতে হয় অসনীয় মশার কামড়।এমন চুরির বিবরণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীণ দক্ষ শিং চোর বা ওস্তাদ বলেন,প্রথমে ঘরের কোনায় গিয়ে কান পাততে হয়।নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে বুঝে নিতে হয় ঘরের বাসিন্দাদের গতিবিধি।যদি হালকা জেগে থাকে মন্ত্র পড়ে নিন্দালি ঝাপানো হয়।এ অবস্থায় গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে পড়ে।এরপর সাবধানি হাতের নরম ছোঁয়ায় দেহের মাপজোক অনুযায়ী খুন্তি,পাসুন দিয়ে ঘরের ওলতিয়া,ডোয়া সুরঙ্গ করে ভিতরে প্রবেশ করা হয়।এর পর খুলে দেয়া হয় ঘরের দরজার হুরকা,ছিটকিনি।এসময় অন্ধকার ঘরের মালের হদিস করে একে একে পাচার করা হয়।নিরাপদে চুরির করাসহ আত্নরক্ষার জন্য অন্য ঘরের বাসিন্দাদের দরজা সামনে বেঁধে রাখা হত।তবে শিং কেটে অন্ধকার শয়ন কক্ষে চুরি করা অত্যান্ত কঠিন ও সাহসি কাজ।গুরুর পিছনে ঘুরে এ বিদ্যার্জন করতে হত।একটা সময় অভাবের তাড়নায় চুরি করে সংসার চালানো হত।চুরি করতে গিয়ে ধরাও পড়তে হয়েছে।বিচার শালিসে উত্তম মধ্যম খেতে হয়েছে।তারপরও চুরির নেশা ছাড়া কষ্টকর ছিল।তারপরও লোক লজ্জা,স্থানীয় ও প্রশাসনিক চাপে ৩০ বছর আগে চুরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় রিকসা চালিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।বিগত কয়েক দশক থেকে এলাকার আত্নসামাজিক পরিবর্তন আসায় মঙ্গা বিড়ারিত হয়েছে।মানুষ এখন নানামূখী কর্মকান্ডে স্বচ্ছলভাবে জীবিকা নিবার্হ করছে।এতে সমাজে জাতকুলমানহারা পেশার লোক আর নেই।এক মসয় শিং দিয়ে বাড়ি চুরি যাওয়া পুটিমারী ইউপির শীলপাড়া গ্রামের কৃষক ভরত চন্দ্র শীল বলেন,রাত পোহালেই শারদীয় দুর্গোৎসব।এজন্য পিঠা পায়েস,চিরা তৈরির জন্য সিলভরের হাড়িপাতিলে ধান ভিজিয়ে রাখা হয়।ওই রাতে শিং দিয়ে বাইসাইকেল,রেড়িও,নতুন কাপড়,টাকা-পয়সা,পাতিলসহ ভিজানো ধান চুরি করে নিয়ে যায় শিং চোর।এতে ম্লান হয়ে যায় পুরো পরিবারের দুর্গোৎসব।এ ধরণের চোর শুধু বাড়ি চুরি নয়,খেটে খাওয়া মানুষের একমাত্র অবলম্বন হালগরুসহ গোয়াল শূন্য করে নিয়ে যেত।সময়ের বির্বতনে সমাজ এখন নিরাপদ ও শান্তিময়।বিছিন্নভাবে অন্য কোন চুরির ঘটনা ঘটলেও শিং দিয়ে বাড়ি চুরির ছিঁটেফোটাও শোনা যায়না।কোথায় হারিয়ে গেল গ্রাম-বাংলার সেই শিং চোর।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধ অবসানে প্রশাসনের সভা
ফেসবুকে ভুয়া গ্রুপের প্রতারণা: বাঁশখালীর আরিফের সিন্ডিকেটে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ
হোয়ানকের মঞ্জুরুল আলমের দাফন সম্পন্ন! জানাযায় শোকাহত মানুষের ঢল
কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
সাতকানিয়ায় ৩ হাসপাতালে অভিযান: ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গাঁজা ও চাকুসহ আটক ২
সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান
আজকের কাজ আজই শেষ করাই সরকারি কর্মচারীদের পবিত্র দায়িত্ব: ডিসি জাহিদ

You cannot copy content of this page