মোঃ সোহেল রানা, বান্দরবান প্রতিনিধি >>> বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রধান নদী সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।বান্দরবান, ৯ জুলাই ২০২৬: অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ধসে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বান্দরবান-রুমা ও বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নদ-নদীর পানির প্রবল স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ, ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে বন্যা, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্গম থানচি উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পাহাড় কাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ ।


মন্তব্য