সানিফ চৌধুরী, হাটহাজারী প্রতিনিধি >>> বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ও ভুতুড়ে বিলের বোঝায় পিষ্ট হাটহাজারীর সাধারণ মানুষ। দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির পর এখন মাস শেষে যে বিল আসছে, তা সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, অন্যদিকে মাস শেষে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি বিলের কাগজ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।বিল বৃদ্ধির ‘সঠিক হিসাব’ নিয়ে বিভ্রান্তি
গত মাসে কয়েক ধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি ইউনিটে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ০১ পয়সা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে, সাধারণ গ্রাহকদের একটি বড় অংশই এই ট্যারিফ বা বিল বৃদ্ধির সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। অনেকেই মনে করছেন, মোট বিলের সাথে হয়তো ১৫ টাকা যোগ হবে। অথচ প্রতি ইউনিটের ব্যবহার অনুযায়ী স্ল্যাব (Slab) ভিত্তিক এই হিসাব কষে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করা হয়। সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। আর এই ইস্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।৭০০ টাকার বিল ২৫০০, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের জোনাল অফিস ঘেরাওয়ের উপক্রম
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী জোনাল অফিসে অসংখ্য ভুক্তভোগী গ্রাহক হাজির হয়ে তাদের ক্ষোভ ও অভিযোগ উগরে দেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই মে মাসের বিল অলৌকিকভাবে বেড়ে গেছে।
গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়:
যার নিয়মিত বিল আসত ৭০০ টাকা, এই মাসে তার বিল এসেছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা।
কারো কারো ক্ষেত্রে ২৮০০ টাকার বিল একলাফে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার টাকারও ওপরে।
ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম নামের এক নারী গ্রাহক ‘চ্যাঁটগার সংবাদ’-কে বলেন, “আমার নিয়মিত বিল আসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। গত মার্চ মাস থেকে বিল দিতে না পারায় মে মাসে এসে বকেয়াসহ বিল দেখিয়েছে প্রায় ১৪,০০০ টাকা! একটা মধ্যবিত্ত বা গরিব পরিবারের পক্ষে হুট করে এত টাকা বিল দেওয়া কীভাবে সম্ভব?”
ফুঁসে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মানববন্ধনের ডাক
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে হাটহাজারীর জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মানববন্ধন, প্রতিবাদী মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়ার ব্যাপারে ডাক দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ না দিয়ে অবাস্তব বিল ধরিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতাকে সাধারণ মানুষ ‘ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
দুর্ভোগে অসহায় মানুষ, নজরদারির আকুতি
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ, গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বিদ্যুতের এই ‘ভুতুড়ে’ বিল মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়ে হাটহাজারীর সাধারণ মানুষ বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির দিকে প্রশাসনের কঠোর নজর দেওয়া উচিত। ডিজিটাল বা অ্যানালগ—যে মিটারই হোক না কেন, রিডিং না দেখে মনগড়া বিল তৈরি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি কমিয়ে গ্রাহকদের সঠিক বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করে কেবল ন্যায্য মূল্যটুকুই আদায় করা হোক, এটাই এখন হাটহাজারী তথা সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর দাবি।


মন্তব্য