এম ইদ্রিস ইমন, মোংলা (বাগেরহাট):
মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের দাবি, দাম বাড়ার অনুপাতে বাড়ছে না আয়-রোজগার। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেকে। এমনকি সবজি, মাছ-মাংসের বাজারে যেতে এখন বুক কাঁপে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও। গত সপ্তাহে ডিমের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও চলতি সপ্তাহে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ব্রয়লার মুরগির ডিম কিছুটা কমে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। এর আগে ডজনে ১০ টাকা বেশি ছিল। অস্থিরতা বিরাজ করছে মাছ-মাংস ও সবজির বাজারে। এ সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজির কমে বাজারে সবজি মিলছে না। এ ছাড়া ৩৫০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ। কম দামি হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজিও এখন ২০০ টাকা।রবিবার (২০ আগস্ট) মোংলা কাঁচা বাজার ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ ২৫০, করলা ৮০, বেগুন ৮০, মুলা ৫০, শসা ৫০, কাঁকরোল ৬০, কচুর মুখি ৭০-৮০, ঢেঁড়স ৬০, পটোল ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, বরবটি ৬০ ধনেপাতা ১৫০ টাকা। মিষ্টি কুমড়া (কাটা পিস) ৪০ টাকা, লাউ ৫০-৬০, চাল কুমড়ার জালি ৫০, টমেটো ১৫০,পেঁপে ৪০ ও কাঁচকলার হালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭০-৮০, আদা ২২০, রসুন ২৬০, আলু ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের কেজি ১৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৩০ টাকা। দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫৬ টাকা, দুই কেজি আটার প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চালের বাজারে নতুন করে বাড়েনি দাম। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে কাটছে না চিনির সংকট। দোকানিরা ১৪০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করছেন।এ ছাড়া মাছের এ ভরা মৌসুমেও বাজার চড়া। এক কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গত সপ্তাহে ৩৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় চিংড়ির কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা, ছোট সাইজের ৫৫০-৬০০ এবং দেশি ট্যাংরা ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ১২০০-১৮০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া খাসির মাংস ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে কিছুটা কমে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা বাজার এলাকায় জামাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতা জানান, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সব ধরনের শাকসবজির দাম বেড়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরার মতো কোনো পদক্ষেপ কেউ নিচ্ছে না।মাছ ব্যবসায়ী মোর্শেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। বাজারগুলোতে চাহিদার তুলনায় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ কম হচ্ছে। যার কারণে সবজি ও মাছের দাম বেশ বেড়ে গেছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুর রহমান বলেন,উপজেলা প্রশাসন প্রত্যেক মাসে বাজার মনিটরিং নিয়ে মিটিং হয়ে থাকে। বাজারমূল্য নিয়ে কোথাও কোনো গরমিল মনে হলে অভিযান চালানো হয়।
মন্তব্য