এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক এই প্রশিক্ষণে এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, যাঁদের দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর সরাসরি সম্পর্ক নেই।চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার পানির ঘাটতি থাকলেও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশল বিষয়ে ৫৪ দিনের প্রশিক্ষণে জাপান গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই কর্মকর্তা। তবে তাঁদের কেউই পানি উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। একজন ক্রয় শাখা ও অন্যজন স্টোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ওয়াসার ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক প্রকৌশল একটি সমন্বিত পরিবেশ প্রকৌশল ব্যবস্থা। এর আওতায় উৎস থেকে পানি সংগ্রহ, শোধন, পাইপলাইন নকশা ও পরিচালনা, বিতরণ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, লিকেজ ও অপচয় কমানো এবং প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।চট্টগ্রাম ওয়াসার অফিস আদেশ অনুযায়ী, ‘কমপ্রিহেনসিভ ইঞ্জিনিয়ারিং অন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ গত ১৬ জুন শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। যাতায়াতের সময় এর বাইরে।অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণকাল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে এবং এ সময় কর্মকর্তারা স্থানীয় মুদ্রায় বেতন, সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। সফর ও প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কেয়া চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর কর্মকর্তা এস এম রুবাইয়াতুল কাদের ভান্ডার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাঁদের কারোরই দৈনন্দিন দায়িত্ব পানি উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, জাইকা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ মনোনয়ন দিয়ে থাকে এবং সারা দেশ থেকেই কর্মকর্তারা এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘চট্টগ্রাম থেকে গেলে সমস্যা কোথায়?’এর আগে ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ বিষয়ে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণে চীনে যান ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রকৌশলীদের বাদ দেওয়ায় ওই সফর নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে সংস্থাটির চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দৈনিক ২৮ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে।অন্যদিকে নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬৫ কোটি লিটার হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। ঘাটতি পূরণে ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে ৪৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখান থেকে দৈনিক সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।


মন্তব্য