আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে দীর্ঘ দুই যুগ পর ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লোহাগাড়া বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনকে দলের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেন। এতে এলাকায় বিএনপি নেতা–কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
দুই যুগ পর ধানের শীষ—নেতাকর্মীদের উজ্জীবনঃ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর বিএনপি প্রতীক পেয়ে লোহাগাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। যদিও এলাকায় বিএনপির তিনটি গ্রুপ রয়েছে, তবে কয়েক মাস ধরে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করছে এবং এখনো ঐক্য বজায় রয়েছে।
লোহাগাড়ার বিএনপি নেতা জাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবা প্রয়াত মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী ধানের শীষ মার্কায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারকার প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনিও এলাকার মানুষের কাছে একটি মাইলফলক কিছু দেখাতে পারবেন বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত–শিবির পরিচয়ে মামলা বানিজ্য, জায়গা দখল, বালু মহাল দখলসহ নানা অপকর্মের কারণে এলাকার জনসাধারণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
সাতকানিয়াতেও আশাবাদ বিএনপিরঃ স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সাতকানিয়ায় চারটি গ্রুপ থাকলেও সবার আলাদা সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। তাই এবার বিএনপি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্ত অবস্থানে আছে।
মুজিব চেয়ারম্যানের বিদ্রোহ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেফায়েত উল্লাহ চক্ষু বলেন, ‘সে দলের জন্য পরিশ্রম করেছে, নমিনেশন প্রত্যাশীও ছিল। তাই সে দাবি করতে পারে, আন্দোলনও করতে পারে। তবে দিন শেষে সবাই এক কাতারে এসে কাজ করব—এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
এদিকে, সম্প্রতি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলেও বিএনপির দায়িত্বশীলরা উল্লেখ করেন।
জামায়াতের দাবি—“সাতকানিয়া আমাদের ঘাঁটিঃ অন্যদিকে জামায়াত নেতারা মনে করেন, সাতকানিয়া–লোহাগাড়া তাদের বহুদিনের দুর্গ। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ার্ড ও পাড়া কমিটি পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো গুছিয়ে আনার কারণে তারা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোকন চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল নামে যখন, তখন কোনো বাধাই মানে না। সারাদেশে ধানের শীষের যে জোয়ার উঠেছে, সাতকানিয়া–লোহাগাড়াও এর ব্যতিক্রম হবে না। সংগঠনিক কাঠামো নয়, জনজোয়ারই শেষ কথা বলবে।’
জনমতের পরিবর্তন—ধানের শীষের আলোচনা সর্বত্রঃ স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রার্থী এলাকায় না এলেও মানুষের মুখে এখন ধানের শীষের কথাই শোনা যাচ্ছে। ফলে জামায়াত–শিবিরের বহুদিনের “দুর্গ” হিসেবে পরিচিত এই আসন হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিতে পারছে না।











মন্তব্য