আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম >>> কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণের মূল ফটকের অদূরে এই ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ দুই নেতা হলেন-মহিউদ্দিন ও রনি। তারা দুজনই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তাঁর বেশ কয়েকজন অনুসারী ও সহযোগী নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে সকালে আদালতে আসেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেলা ১১টার দিকে তারা আদালত ভবন থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময়ই পূর্ব ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র যুবক লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় লিয়াকত আলীর সহযোগীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী সহকারী ও বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ জানান, আকস্মিক এই গোলাগুলিতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।আদালতে একটি মামলার শুনানিতে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন,আমি তখন আইনজীবী ভবনের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পরপর ৪-৫টি বিকট গুলির শব্দ শুনি। তাকিয়ে দেখি কয়েকজন যুবক পিস্তল উঁচিয়ে একজনকে লক্ষ্য করে গুলি করছে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো আদালত চত্বরে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। সবাই দিগি্বদিক জ্ঞান হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে থাকে। চোখের সামনেই দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখলাম।আদালত চত্বরের এক চা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পরপরই লিয়াকত মেম্বারের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা খুব দ্রুত অস্ত্র বের করে গুলি করা শুরু করে। গুলির আওয়াজে পুরো এলাকা কেঁপে উঠেছিল। কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল যেন যুদ্ধক্ষেত্র।খবর পেয়ে আদালত চত্বরে নিয়োজিত পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান,আদালত প্রাঙ্গণে লিয়াকত আলী মেম্বারকে লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি চালিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আদালত চত্বরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিন ও রনির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। তাদের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর কক্সবাজার শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


মন্তব্য