বিএসপি আন্তর্জাতিক ডেস্ক >>> ★ শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭টি জাহাজ এ পথ পার হতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানের কড়া নির্দেশনার কারণে বৃহস্পতিবার এ পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭টি জাহাজ এ পথ পার হতে পেরেছে। এর মধ্যে একটি তেলের ট্যাঙ্কার এবং ছয়টি বাল্ক ক্যারিয়ার রয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলার ও লয়েডস লিস্টের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকশ ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এতে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) লারাক দ্বীপের চারপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে। তাদের দাবি, মূল নৌপথে নৌ-মাইন থাকার ঝুঁকি থাকায় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।আইআরজিসি নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ করে দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হতে হবে।তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে সতর্ক করেছে, ইরানের অনুমোদন ছাড়া চলাচল করা জাহাজ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ—এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি অনুমতি পাওয়া কিছু জাহাজকেও মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিটি জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল দাবি করতে পারে।‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আদায়ের পরিকল্পনা করছে।তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের টোল আদায়ের কোনো বৈশ্বিক চুক্তি নেই। এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় ‘বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করতে পারে।এদিকে ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার পাইন গ্যাস লারাক দ্বীপের বিকল্প পথ ব্যবহার করে হরমুজ পার হলেও তারা কোনো টোল দেয়নি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন জাহাজটির চিফ অফিসার সোহান লাল।জাপানের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি মিৎসুই ওএসকে লাইনস জানিয়েছে, তারা গত কয়েক দিনে তিনটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তারা নিজ নিজ সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে পড়তে শুরু করেছে। ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ঠিক রাখতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ও পুরোনো দুটি ইরানি জাহাজকে তাদের বন্দরে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছিল, যা আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউএএনআই-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরানের পতাকাবাহী অন্তত ২৩টি ট্যাঙ্কার এশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের সরবরাহের কাছাকাছি।
সূত্রঃ রয়টার্স।


মন্তব্য