আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়নের ‘মিষ্টি জসিম’ এবং ‘সাকিব’ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিকেলে পাহাড়ি এলাকায় এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। সাকিবের নেতৃত্বাধীন স্থানীয়রা এতে বাধা দিতে গেলে জসিমের অনুসারীদের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। এতে জসিম, টিপু, সাকিব, আলিম উদ্দিন, রবিউল হাসান, রিফাত ও কফিলসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কেরানিহাটের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।অভিযুক্ত সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, হামলার শিকার মোহাম্মদ জসিমের দাবি-সাকিব ও রিফাত এক তরুণীর মোবাইল ছিনতাই করলে তিনি প্রতিবাদ করেন, যার ফলে কামরুল হাসান তালুকদার নামে এক ব্যক্তির মদদে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তবে কামরুল হাসান তালুকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং জসিম নিজেই জনরোষের শিকার হয়েছেন।সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন,প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ইভটিজিং ও মোবাইল কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


মন্তব্য