যুক্তরাষ্ট্র ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে সৌদি আরব ও ইসরাইল-এর প্রভাব ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশ কয়েক সপ্তাহের লবিং এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে রাজি করায়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগত ফোন কল ও বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে হামলার পক্ষে প্ররোচিত করেন, আর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে দেশটির জন্য বড় হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে মার্কিন হামলার পক্ষে প্রচারণা চালান।
ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করতেন, আগামী এক দশকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হুমকি দিতে পারবে না।
ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান থেকে বিরত ছিল। ৯ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটি দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো এই বিমান হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের নীতি ভঙ্গ এবং তার আগের সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
হামলার সময় স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলেন। তবে বৈঠকের পর তারা ধারণা করেন, তেহরান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। এ অবস্থার পরই শনিবার নজিরবিহীন বিমান হামলা করা হয়।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হামলার জন্য প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি রিয়াদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার সংক্রান্ত শর্তও স্থির করেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই হামলা না চালায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাঁর ভাই ও সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও হামলা না করার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি নেতার অবস্থানে দুটি মূল লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, নিজ দেশের তেল স্থাপনাগুলোকে ইরানের প্রতিরোধ থেকে রক্ষা করা; দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। শিয়া-প্রভাবিত ইরান ও সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যে বারবার প্রক্সি যুদ্ধের সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিক হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এবং তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরব তা তীব্রভাবে নিন্দা করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।











মন্তব্য