১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
আন্তর্জাতিক:
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক জাতিসংঘের ভোকেশনাল কেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর তল্লাশি, অগ্নিনির্বাপণে বাধা বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ ইসলামাবাদের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
     
             

নোয়াখালীতে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা:অভিযুক্ত সেই চার চিকিৎসকের সনদ বাতিল

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

এম নুর নবী আহমেদ,চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন >>> চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার চিকিৎসকের সনদ সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।দৈনিক ইনকিলাব সহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা সংক্রান্ত সংবাদটি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়েছিলো।সনদ সাময়িকভাবে বাতিল হওয়া চার চিকিৎসক হলেন- ডা. ফৌজিয়া ফরিদ, ডা. সাওদা তাসনীম, স্বাস্থ্য সহকারী জাহেদ হাসান ও ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন।এর মধ্যে ডা. ফৌজিয়া ফরিদ ও ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন তিন বছর এবং ডা. সাওদা তাসনীম এক বছর ও জাহেদ হাসানের ছয় মাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।এই সময়ের মধ্যে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেডিক্যাল চিকিৎসক হিসেবে কোনো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা অথবা নিজেকে মেডিক্যাল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার ডাক্তারের সনদ সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।বিএমডিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডা. ফৌজিয়া ফরিদের বিরুদ্ধে প্রসূতি উম্মে সালমা নিশির চিকিৎসাকার্যে আনীত অভিযোগের দায় প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ (৬১ নং আইন) এর ধারা ২৩(১) এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল প্রবিধানমালা ২০২২ এর বিধান ৩৬(৪) (খ) অনুযায়ী রেজিস্টার থেকে তার নাম প্রত্যাহারপূর্বক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন তিন বছরের জন্য বাতিল করা হয়েছে।একই অভিযোগে রেজিস্টার থেকে ডা. সাওদা তাসনীমের নাম প্রত্যাহারপূর্বক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন এক বৎসরের জন্য বাতিল করা হয়েছে।এদিকে স্বাস্থ্য সহকারী জাহেদ হাসানের রেজিস্ট্রেশন ছয় মাসের জন্য বাতিল করা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে তিনি তার জন্য নির্ধারিত ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও তদ্রূপ পরিচয় জ্ঞাপন করতে পারবেন না।এছাড়াও ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের নাম রেজিস্টার থেকে প্রত্যাহারপূর্বক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন তিন বৎসরের জন্য বাতিল করা হয়েছে।২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে নোয়াখালীর সেনবাগ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম এ আউয়াল তার একমাত্র মেয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা উম্মে সালমা নিশির বাবুর ২৪১ হার্টবিট নিয়ে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর মাইজদীতে বেসরকারি সাউথ বাংলা হাসপাতালে আসেন।ওই সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আক্তার হোসেন অভি ও তার স্ত্রী ডা. ফৌজিয়া ফরিদ রোগীর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এবং অভিভাবকের সম্মতি না নিয়েই সিজারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তেই মা ও সন্তানের মৃত্যু হয়। এসময় ঘটনা ধামাচাপা দিতে চিকিৎসক ডা. আক্তার হোসেন অভি তার স্ত্রী ফৌজিয়া ফরিদসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে আইসিইউ সাপোর্টের কথা বলে তাকে কুমিল্লায় পাঠান।পরে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিশির বাবা সাংবাদিক এম এ আউয়াল বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।সাংবাদিক এম এ আউয়াল বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া মেয়ের অপারেশন করা হয়েছিলো। এতে করে আমার মেয়ে ও নবজাতককে হত্যা করা হয়। আমি প্রথমে মৌখিক ও পরে ২৩ অক্টোবর সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সব শেষ আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। হতভাগা বাবা হিসেবে আমার সন্তান ও নাতি হত্যার ন্যায় বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল ও অভিযুক্ত চিকিৎসকরা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে আমি নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছিলাম।চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসায় আর কাউকে যেন প্রাণ হারাতে না হয়,সে বিষয়ে সকলেরই সজাগ ও দায়িত্ববান হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রত্যাসা করেন সন্তান হারা এ পিতা।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page