এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম শহর লাগোয়া সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে দুস্কৃতিকারী সন্ত্রাসীদের হামলায় মোতালেব নামে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।১৯ জানুয়ারী(সোমবার) বিকাল ৪ টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।নিহত র্যাব কর্মকর্তা হলেন নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং র্যাব-৭–এ ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) পদে কর্মরত ছিলেন।র্যাব-৭ সূত্র জানায়, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে ৪৩ সদস্যের একটি আভিযানিক দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।হামলায় র্যাবের চার সদস্য রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিন র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।র্যাব-৭–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং রাত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক বড় ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান শিগগিরই শুরু হবে।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘ চার দশক ধরে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য রক্ষায় সেখানে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক অভিযানে আগেও সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেছে।জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র রয়েছে বলে জানা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একাধিকবার সেখানে অভিযান পরিচালনার সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এই অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দুটি শক্তিশালী সংগঠন। এর একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যেটি কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা যায়।পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, এই দুই সংগঠনের সদস্য প্রায় ৩০ হাজার। দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সংগঠিতভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই পক্ষ এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।











মন্তব্য