১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়ি পাল্লার সমর্থনে স্বতঃস্ফূর্ত মহিলা মিছিল অন্য দলকে ভোট দিলে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দিব: হাসনাতের প্রতিদ্বন্দী বিএনপির নেতা মঞ্জু মুন্সি। সাতকানিয়ায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর প্রতীকী মহড়া চট্টগ্রাম-৯ আসনে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বাঁশখালীতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বিশাল জনসভা কর্নেল অলি পটুয়াখালী শহীদ মিনারে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর শেষ নির্বাচনী বার্তা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। নির্বাচনে ব্লেইম গেম বা নাটকের সুযোগ নেই -চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।  আমি আপনাদের সন্তান নির্বাচনী প্রচারণা শাহজাহান চৌধুরী  চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত
আন্তর্জাতিক:
  • প্রচ্ছদ
  • অন্যান্য >> চট্টগ্রাম >> চট্টগ্রাম >> জাতীয় >> দেশজুড়ে
  • চট্টগ্রামের ডিসি সাত দিনে তিন মন্ত্রণালয়ে বদলি
  • চট্টগ্রামের ডিসি সাত দিনে তিন মন্ত্রণালয়ে বদলি

      বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

    নিউজ ডেস্ক।। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমকে প্রত্যাহারের পর গত সাত দিনে তিন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রথমে পরিবেশ, পরে সংস্কৃতি, সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁকে বদলি করা হয়। এ বদলির কাজ গোপনীয়তার সঙ্গে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদা খানমকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ডিসি পদ থেকে রিলিজ হওয়ার দিন তাঁকে বদলি করা হয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে যোগ দেননি। এর মধ্যেই গত রোববার তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে এ প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।
    অন্যদিকে নওগাঁর ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালকে চট্টগ্রামে বদলি করা হলে যোগ দেননি।

    সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদা খানমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগে দুই মাস ধরে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
    চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ফরিদা খানমের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত হয়েছে। এখনও হচ্ছে। বদলির পর গত বৃহস্পতিবার তিনি রিলিজ হয়েছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান ডিসির দায়িত্বে আছেন। নতুন ডিসি যোগ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলতে পারবে। কারণ, মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর নতুন ডিসি নিয়োগ হয়।’

    এ বিষয়ে জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মোহাম্মদ খালেদ হাসানকে একাধিকবার মোবাইলে কল দিলে তিনি ধরেননি। নতুন ডিসি নিয়োগ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি উত্তর দেননি।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, সাত দিনে তিন মন্ত্রণালয়ে বদলি– এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব ও কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মচারীদের বদলি
    ফরিদা খানমের বদলির সাত দিন পর গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দপ্তরের কর্মচারীদেরও বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের নাজির মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে নোয়াখালীতে এবং সার্টিফিকেট শাখার উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরীকে রাঙামাটির কাউখালীতে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের সঙ্গে তারা জড়িত। তাদের আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। না হলে ওই দিন বিকেল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হবেন।

    কর্মচারীদের বদলির বিষয়ে ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, এটি রুটিন কাজ। কোনো দপ্তরে বেশি দিন হলে বদলি করা হয়।

    ভূমি বিষয়ে চলছে তদন্ত
    চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারির বিষয়ে গত ৪ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ভূমি মন্ত্রণালয়। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোমিনুর রশীদ, সদস্য ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শহীদুল ইসলাম ও রুহুল আমীন। কমিটির সদস্যরা সরেজমিন তদন্ত করেছেন।
    জানা যায়, কমিটি ভূমির রেকর্ড, রেজিস্টার, আদালতের আদেশ ও নামজারি আদেশসহ কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছে। নামজারি বিধিসম্মত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছে।
    মোমিনুর রশীদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সাবেক ডিসি ফরিদা খানম বলেন, ‘পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে যে বদলি হয়েছিল, সেটি আমি জানি না। এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আমাকে বলেছেন, আপনি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করবেন। তখন আমি সম্মতি হয়েছি।’ ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আমার একার বিরুদ্ধে নয়; সার্বিকভাবে প্রতিবেদন দিয়েছে।’

    চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভূমি-সংক্রান্ত বিতর্কের শুরুতেই চট্টগ্রামের এই ডিসিকে বদলি করা উচিত ছিল। ফরিদা খানম নীতিমালা না মেনে প্রায় ৩০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়েছেন।

    মন্তব্য

    আরও পড়ুন

    You cannot copy content of this page