ত্রিশাল প্রতিনিধি, এম.এ.এইচ রাকিবুল >>> ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত সিদ্দিকীকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনভর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ, আবেদনপত্রে স্বাক্ষর, শুনানি এবং পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ নানা প্রয়োজনে সকাল থেকে অনেকে ইউএনও কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা ইউএনওর দেখা পাননি। পরে অনেকে কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে যান।তাদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ইউএনওর অনুমোদন বা সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় অনেকের কাজ আটকে যায়। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানান তারা।এদিকে বুধবার (১২ আগস্ট) ত্রিশালের একটি বালুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষের অভিযোগ, অভিযানের সময় ইউএনওকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি, অভিযানের সময় ইউএনওর আচরণে তাদের একজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে।এর পরদিন ইউএনওকে দিনভর কার্যালয়ে না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি প্রশাসনিক কাজে বাইরে ছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে অফিসে উপস্থিত হননি—এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “স্যার আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে আসেননি। আমি বিকেল ৪টার পর অফিস থেকে চলে এসেছি। কেন তিনি অফিসে আসেননি, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, একজন ইউএনও জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানের দায়িত্বে থাকেন। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই প্রশাসনিক সেবা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী একই সঙ্গে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার অনুপস্থিতির প্রভাব উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে দিনভর অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণ এবং বুধবারের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইউএনও বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য