চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। চিনের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের কাছে টাইফুন ‘ডলফিন’ স্থলভাগে আঘাত হানে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর আগে শনিবার উত্তর তাইওয়ানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায় ঝড়টির বহিরাংশ। চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝো শহর এবং পাশের ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার সময় টাইফুন ডলফিনের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯৩ মাইল।
এই ঝড়ের প্রভাব বিমান চলাচলের ওপর মারাত্মকভাবে পড়েছে। সাংহাইয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করেছে শহরের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দর। সব মিলিয়ে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার প্রায় ১,৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ঝেজিয়াংয়ের হাংঝৌ বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে প্রায় ২৭০টি ফ্লাইট। ঝড়ের প্রভাবে সাংহাইয়ের দুটি বিমানবন্দরে অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র রোববার সকালে টাইফুন ‘ডলফিন’-এর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে। চীনে ঝড়ের ক্ষেত্রে এটিই সতর্কতার সর্বোচ্চ পর্যায়। আবহাওয়া বিভাগ ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় অতিভারি বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। এছাড়া সোমবার বিকালের মধ্যে সাংহাই এবং ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু অংশেও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১৬ ইঞ্চি বা ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ঝড়ের ঝুঁকির মুখে কেবল ওয়েনঝৌ শহর থেকেই প্রায় ৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুজিয়ানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে সব মিলিয়ে ৩ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এক হাজারেরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শত শত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত জাহাজকে বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে ঝেজিয়াংয়ে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান অঞ্চলে ২০০টিরও বেশি ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল ঢেউ, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের গতিপথ এবং তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সোমবার বিকালের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা থাকলেও, অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য মতে, ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে অত্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা বহাল রয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর


মন্তব্য