মোঃ ফারুক হোসেন আদিতমারী প্রতিনিধি (লালমনিরহাট) >>> লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় ছয়টি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নন্দিনীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছেগ্রেফতার হওয়া বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩) ফলিমারী গ্রামের ধনঞ্জয় বর্মণের ছেলে। নিহত নন্দিনী রানী (৭) একই গ্রামের কৃষক নলিনী চন্দ্র বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো খেলতে বের হয় নন্দিনী। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সারারাত অনুসন্ধানের পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে ভাঙা গাছ দেখে সন্দেহ করেন। পরে খেতের ভেতরে একটি গর্তে বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।নিহত শিশুর বাবা নলিনী চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমার কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সোমবার রাত ১১টার দিকে আদিতমারী থানায় গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো বলেও দাবি করেন তিনি।নন্দিনীর মা সাবিত্রী রানী বলেন, “প্রতিদিনের মতো সেদিনও খেলতে বের হয়েছিল নন্দিনী। ধারণা করছি, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, নিহত শিশুর বাবা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


মন্তব্য