মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি,ফরিদপুর >>> ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কাজীর ডাঙ্গী গ্রামের কাজীবাড়িতে জমিজমা, বাড়িঘর ও বাগানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের হামলায় চাচা কাজী সিরাজুল হক ওরফে লাল মিয়া (৫৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহত কাজী সিরাজুল হক মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে। তিনি মানিকগঞ্জের বসুন্ধরা স্টিল মিলে চাকরি করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত বসবাস করতেন না। করোনা মহামারির সময় থেকে তিনি মূলত ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদুল আজহার পরদিন গ্রামের বাড়িতে আসেন কাজী সিরাজুল হক। পরিবারের দাবি, বাড়ির বাগানের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া এবং জমিজমা ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৯ মে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতিকালে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। প্রথমে চাচাতো ভাই রানা কাজী (৩০)-কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কাজী সিরাজুল হককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রানা কাজী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমন কাজী (৩৫), তুষার কাজী, তাদের মা ডলি বেগম (৫৫), সুমনের স্ত্রী মিথিলা (৩০) এবং তুষারের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটি (২৫)সহ আরও কয়েকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, “ঈদের পরদিন সকালে আমার স্বামী গ্রামের বাড়িতে যান। দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করেন। আমাদের বাগানের গাছ কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হয়তো বাকবিতণ্ডা হয়েছে। পরে ঢাকায় ফেরার সময় তারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি চাই।”আহত রানা কাজীর স্ত্রী হালিমা সুলতানা বলেন, “আমার স্বামীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় ব্যবহৃত হাতুড়িটি কামরুল কাজী নামে এক ব্যক্তি নিয়ে যায় এবং বর্তমানে তার কাছেই রয়েছে।এদিকে, ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গাছ কাটা ও বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”চরভদ্রাসন থানার এসআই আসাদ এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।সদরপুর থানার মামলা নং- ২৮/১৩১ তারিখ ৩০/০৫/২০২৬ ইং।নিহত কাজী সিরাজুল হকের মরদেহ ফরিদপুরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


মন্তব্য