এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জেলার ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। এতে তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। ফলে তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।পিডিবির তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য।শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় ছিল। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্র সকাল-সন্ধ্যা উভয় সময়ই বন্ধ ছিল। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে নগর ও গ্রামে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং উপজেলার অনেক স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম বলেন, বৈশাখের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও অফিসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করার দাবি জানান।চট্টগ্রাম সরঃ কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাহিল জানায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বাসা ও স্কুল—উভয় জায়গাতেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।পিডিবির চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।


মন্তব্য