বিএসপি ডেস্ক রিপোর্ট >>> আজ ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময় এক বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবহ এই দিনটি। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে বাঙালির জীবনে নেমে আসে নৃশংসতা, বিভীষিকা ও বেদনার এক অন্ধকার অধ্যায়।২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মধ্যরাতে ঢাকার পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জহুরুল হক হল ও রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে চালানো হয় গণহত্যা। পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও মৃত্যু।অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করা হয় ১৮ মার্চ। ২৫ মার্চের সেই কালরাত থেকেই শুরু হয় গণহত্যা, যা পরবর্তী নয় মাস ধরে অব্যাহত থাকে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।সেই রাতে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের বীর সদস্যরা। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেন। প্রায় চার ঘণ্টার প্রতিরোধ যুদ্ধে বহু পুলিশ সদস্য শহীদ হন এবং অনেকে বন্দি হন।পাকিস্তানি বাহিনীর এই নৃশংস গণহত্যার স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে এই গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেনোসাইড ওয়াচ ও লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন এ ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পথে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২৫ মার্চ ছিল সুপরিকল্পিত গণহত্যা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ সারাদেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন রয়েছে। দিবসটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাতে কোনো আলোকসজ্জা রাখা হবে না।


মন্তব্য