৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
আন্তর্জাতিক:
ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু সমুদ্রতলের ডিজিটাল ধমনী ও ইরান-মার্কিন সংঘাত: বিশ্ব অর্থনীতি কি ধসের মুখে পৃথিবীর চমক ইরান আল্টিমেটামের ভেতরেই ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ইরানের ড্রোন হামলা ও সৌদি আরবের জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটে অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংকট
     
  • প্রচ্ছদ
  • অন্যান্য >> আন্তর্জাতিক >> চট্টগ্রাম >> চট্টগ্রাম >> জাতীয় >> দেশজুড়ে
  • হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ
  • হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ

      বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

    আ ফ ম খালিদ হোসেন।। বিশ্বমানচিত্রে হরমুজ প্রণালি এক টুকরো সরু জলরেখা হলেও এর ভেতরেই জমাট বেঁধে আছে আধুনিক সভ্যতার শক্তি, অর্থনীতি ও সংঘাতের ইতিহাস। পারস্য উপসাগর আর ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই প্রণালি শুধু ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়; এটি একটি ‘অদৃশ্য স্নায়ু’, যার স্পন্দনে ওঠানামা করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, কূটনীতি এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা। বৈশ্বিক জ্বালানির চোকপয়েন্ট >> প্রতিদিন বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে অতিক্রম করে। কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে শুরু করে সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও আমিরাতের অপরিশোধিত তেল-সবই এই এক দরজার ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ শুধু একটি পথ নয়, বরং এক চোকপয়েন্ট যেখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে ঝড় তোলে। ইরানের কৌশল ও মার্কিন উপস্থিতি >> ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালিকে তার কৌশলগত শক্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র, নৌমাইন ও দ্রুতগামী ছোট নৌযান ব্যবহার করে ‘অসম যুদ্ধের’ (asymmetric warfare) মাধ্যমে ইরান এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের উপস্থিতি এবং মিত্র আরব রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ইরানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। ইরানের আসল শক্তি হলো বিশ্ববাজারকে সাময়িকভাবে ‘নাড়িয়ে দেওয়ার’ ক্ষমতা। বিশেষ করে ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র ‘হার্গ দ্বীপ’-এ কোনো আঘাত আসলে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোয় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। সুয়েজ সংকটের প্রতিচ্ছবি >>> ১৯৫৬ সালের সুয়েজ খাল যেমন ছিল ব্রিটিশ-ফরাসি আধিপত্যের শেষ আলো, আজকের হরমুজ প্রণালি যেন আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির স্পন্দিত ধমনি। তবে সুয়েজ সংকটের চেয়ে হরমুজ কেন্দ্রিক সংঘাত অনেক বেশি অনিশ্চিত ও বহুমাত্রিক। ইরান যদি এখানে ‘আগুন জ্বালায়,তবে তা হবে দাবানলের মতো-যা চীন, ইউরোপ ও জাপানের মতো নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকেও গ্রাস করবে। এটি তখন আর ‘ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ থাকবে না, হয়ে উঠবে ইরান বনাম বিশ্ব অর্থনীতি।বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: এক নীরব অভিঘাত >> হরমুজের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য কোনো দূরের যুদ্ধ নয়, বরং এটি সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির ওপর আঘাত হানে। জ্বালানি খাত >> বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। হরমুজে বিঘ্ন ঘটলে দেশে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম লাফিয়ে বাড়বে। মূল্যস্ফীতি >> পরিবহন খরচ বাড়লে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। রপ্তানি ও রিজার্ভ >> পোশাক খাতে উৎপাদন খরচ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রেমিট্যান্স >> মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লাখ শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়লে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উত্তরণের পথ কী >> বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কিছু দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে,জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা।নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (সৌর ও বায়ু শক্তি) দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো।বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কঠোর সতর্কতা অবলম্বন।আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা (ভারত, নেপাল ও ভুটান) জোরদার করা। উপসংহার >> হরমুজ প্রণালির ঢেউ হাজার মাইল দূর থেকে এসে বাংলাদেশের তীরে আছড়ে পড়ছে। এই সংকটকে শুধু দূরের কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আমাদের নীতিনির্ধারণী প্রস্তুতি এবং দূরদর্শিতার এক কঠিন পরীক্ষা। আজকের আন্তঃনির্ভরশীল পৃথিবীতে এক প্রান্তের অস্থিরতা অন্য প্রান্তের জীবনের ছন্দ কেড়ে নেয়-আর সেই বাস্তবতাকে মেনেই আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বলয় গড়তে হবে।

    আ ফ ম খালিদ হোসেন,বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা।

    মন্তব্য

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    আরও পড়ুন

    You cannot copy content of this page