এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে চলমান আন্দোলনের পেছনে বিশেষ মহলের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ও পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক।রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদলের ডাকা ধর্মঘটে দুইদিনের অচলাবস্থার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের আড়ালে কোনো মহল অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হবে।তিনি জানান, কর্মবিরতির মধ্যেও বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শনিবার প্রায় এক হাজার টিইইউস কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে এবং রোববার প্রায় ১৭০০ টিইইউস ডেলিভারির প্রস্তুতি রয়েছে। জাহাজের কাজ, ইয়ার্ড কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ওমর ফারুক বলেন, ‘বাইরে অপপ্রচার করা হচ্ছে—লোক নেই, কাজ নেই। এসব কথায় কান না দিতে আমরা ইউজারদের অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।’কর্মবিরতির প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে ডেলিভারি কম হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।রমজান সামনে রেখে এ ধরনের আন্দোলনকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকুক। বহির্নোঙরে জাহাজ আটকে রেখে পণ্য মজুতের বিষয়ে অভিযান চলছে এবং আরও অভিযান চালানো হবে।’চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিটি ইজারা একটি সরকারি সিদ্ধান্ত। এটি পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ কেবল বাস্তবায়নকারী সংস্থা। এখনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ। সংশ্লিষ্টরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, এনসিটি আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ ধর্মঘটের ডাক দেয়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। রোববারও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল ছিল।শনিবার কর্মবিরতির কারণে চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। বন্দর অচলের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সিএমপি কমিশনার বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।











মন্তব্য