২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
অপহরণের পর কালো গাড়িতে তুলে যুবককে বর্বর নির্যাতন শিবগঞ্জে দুই কৃতী ব্যক্তিত্বকে সাংবাদিক ফোরামের সংবর্ধনা সাতকানিয়ায় মাদক অপপ্রচারের নেপথ্যে বালুমহাল দখল ও পাওনা টাকার বিরোধ রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালানী মালামালসহ ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ ​উন্নত চিকিৎসার জন্য ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ঢাকায় স্থানান্তর সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় আরজেএফ এর মানববন্ধন রাজশাহীতে বাড়িতে হামলা, বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ আরজেএফের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন কর্মে ধর্মের শিক্ষা প্রতিফলনের আহ্বান- ডিসি জাহিদ সাতকানিয়ায় ৫১০ লিটার চোলাই মদসহ একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ
আন্তর্জাতিক:
অনুমোদন ছাড়াই কেরানীহাটে বাণিজ্য মেলা: অচল মহাসড়ক ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
     
             

এক হাজার টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

জামাল হোসেন পাবনা জেলা প্রতিনিধি>>> বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে যান আব্দুস সামাদ ওরফে সম্রাট (২৮)।এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত করতে দুই হাজার টাকা খরচ হয় তার বন্ধু আজাদ হোসেনের।তার মধ্যে আজাদকে এক হাজার টাকা দেন সম্রাট।আর বাকি এক হাজার টাকা পাওনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়।তারই এক পর্যায়ে পাওনা এক হাজার টাকা না দিয়ে বন্ধু আজাদকে হত্যা করেন সম্রাট।গত ১১ মার্চ পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার রাজমিস্ত্রি আজাদ হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্ত সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (১৭ মার্চ) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ আলম।এর আগে শনিবার (১৬ মার্চ) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত আজাদ পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে এবং গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সামাদ ওরফে সম্রাট একই গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন,গত ১১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আজাদ তার ডিসকভারী মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করে তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন বিকেলে পাবনা সদর থানায় নিখোঁজ জিডি করেন তার বাবা আব্দুল হাকিম।খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ১৩ মার্চ দুপুরের দিকে দাপুনিয়া ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের মোশাররফ চেয়ারম্যান এর খামারের পাশে লিচু বাগানে পাওয়া যায় নিখোঁজ আজাদের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ।পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।এরপর ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ একটি টিম।তারা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আজাদ হত্যার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত সম্রাট।জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানায়,তারা দু’জনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং একসঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন।এক মাস আগে আজাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এতে মোটরসাইকেল মেরামত বাবদ দুই হাজার টাকা খরচ হয় আজাদের। তার মধ্যে এক হাজার টাকা দেন সম্রাট।বাকি এক হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।সেই থেকে অভিযুক্ত সম্রাট কিভাবে তার বন্ধু আজাদকে হত্যা করবে তার সুযোগ খুঁজতে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় সম্রাট কৌশলে গত ১১ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বন্ধু আজাদকে ডেকে নিয়ে মোশাররফ চেয়ারম্যানের খামারের পাশে লিচু বাগানে যায়। সেখানে কথা-বার্তার একপর্যায়ে সম্রাট তার কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আজাদের গলায় ও চোখের নিচে আঘাত করে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ টেনে হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে থাকা শিম গাছের শুকনা লতাপাতার নিচে ঢেকে রাখে।হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ঘটনাস্থলের পাশে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়।নিহত আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং তার গায়ে থাকা রক্তমাখা জ্যাকেট নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।যাবার সময় আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পথিমধ্যে ছয়ঘড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দেয়।এছাড়া আজাদের রক্তমাখা জ্যাকেট এবং মোটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বর প্লেট সম্রাট তার শোবার ঘরে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে জনৈক ফারুক শেখের বাড়িতে রেখে আসে।গ্রেপ্তারের পর সম্রাটের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে সঙ্গে নিয়ে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন,মোটরসাইকেল,পরিহিত রক্তমাখা জ্যাকেট ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু জব্দ করে পুলিশ।এ ঘটনায় হত্যার দায় স্বীকার করে শনিবার বিকেলে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সম্রাট।পরে তাকে সদর থানার মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page