মোঃ আরাফাত তালুকদার জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন টেবিলে আখিনুর (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করেন।
বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজেদুর রহমান বলেন, সেবা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারকালে ভুল চিকিৎসায় আখিনুর নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে ওই ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ক্লিনিকের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, ক্লিনিকের অভ্যর্থনাকারী ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখা পারেননি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। একইসঙ্গে ক্লিনিক স্টাফ (অভ্যর্থনাকারী) লিমাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, এরইমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্লিনিকটির অনুমোদন থাকলেও যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত ক্লিনিকটি সিলগালা অবস্থায় থাকবে।গত রোববার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টার দিকে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যুর পর আখিনুরের মরদেহ উন্নত চিকিৎসার নামে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দেয়।জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুর বয়াতির স্ত্রী আখিনুরকে প্রসবজনিত কারণে রোববার বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত নার্স নরমাল ডেলিভারি করার উদ্যোগ নেন। এরইমধ্যে এক দালাল আখিনুর ও তার স্বজনকে ভয় দেখিয়ে দ্রুত সিজারের জন্য সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। ওইদিন সন্ধ্যার পর সেবা ক্লিনিকে ডা. সোলায়মান নামে এক চিকিৎসক আখিনুরের সিজার করেন।সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্মের দীর্ঘক্ষণ পরেও আখিনুরের জ্ঞান না ফেরায় অপারেশন থিয়েটারে থাকা টিম নিশ্চিত হন তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তড়িঘড়ি করে সেবা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেরা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আখিনুরের মরদেহ উন্নত চিকিৎসার নামে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বরিশাল হাসপাতালে নেওয়ার পর আখিনুরের স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পারেন।
মন্তব্য