সোহেল রানা,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি >>> কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় যখন তানোরের জনপদ নীরব ও স্থবির, তখন শীতার্ত ও অসহায় মানুষের জীবনে উষ্ণতার পরশ নিয়ে পাশে দাঁড়াল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সংস্থাটির উদ্যোগে শীতার্ত জনগণের মাঝে “কম্বল বিতরণ–২০২৬” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) রাজশাহীর তানোর উপজেলার সিসিডিবি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নাঈমা খান। শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে তিনি এ মানবিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নাঈমা খান বলেন,“শীত শুধু প্রকৃতির নয়, মানুষের জীবনেও কষ্ট বয়ে আনে। এই সময়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সিসিডিবি দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে আছে—এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”অনুষ্ঠানে সিসিডিবি, তানোর, রাজশাহীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন বয়সের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি সুচারুভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সিসিডিবি মোহনপুর এলাকার এলাকা সমন্বয়কারী মোঃ আতিকুর রহমান চৌধুরী। পাশাপাশি শাখা তাঁহাপর, তানোর-এর প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল হাই আল হাদসহ সিসিডিবির অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।অনুষ্ঠানে শীতার্ত, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। এক উপকারভোগী বলেন,“এই শীতে একটি কম্বল আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। রাতে ঘুমাতে কষ্ট হতো, আজ মনে হচ্ছে একটু শান্তিতে থাকতে পারবো।”সিসিডিবি কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।মানবিকতার এমন উদ্যোগ শীতের এই সময়টাতে শুধু শরীর নয়, মানুষের মনেও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়—আর সেই উষ্ণতার বার্তাই বহন করল তানোরের সিসিডিবির এই কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান।











মন্তব্য